মালয়েশিয়ায় পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে উদ্ধার করার পাশাপাশি চক্রের সদস্য তিন রোহিঙ্গাকে গেপ্তার করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ধৃত তিন রোহিঙ্গা হচ্ছেন সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১)। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে টেকনাফের বড়ইতলী পাহাড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে এ পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার হন।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরকে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়। পুলিশি কৌশলে ও চাপের মুখে বাধ্য হয়ে নিজেদের রক্ষার্থে পাচারকারীরা তাদের মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় দুই কিশোর। এ ঘটনায় প্রথমে চান্দগাঁও থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তাদের বাবা। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি মানব পাচার আইনে মামলা করেন নিখোঁজ এক কিশোরের বাবা।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে মো. আব্দুল কাদের মামুন ও মো. ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর চাঁদপুরের মতলব থেকে মামুন ও কঙবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফা নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধৃত মোস্তফা মালয়েশিয়ায় শিশু পাচারকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া জবানবন্দি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল অভিযান চালিয়ে সাব মিয়া, শাহ আলম ও মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তারা সাংবাদিকদের বলেন, ধৃত মোস্তফা ও মামুন তাদের এক বন্ধুর পরিচিত। তারা বেড়ানোর কথা বলে তাদেরকে চট্টগ্রাম থেকে কঙবাজার নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের মালয়েশিয়ার দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় তাদের আটকে রেখে মারধর করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হতো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার বলেন, দুই কিশোরকে টেকনাফে নিয়ে ৬/৭ দিন পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে ট্রলারে মালয়েশিয়া নেওয়া হয়। এই চক্রে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের অপরাধীদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা জড়িত।












