পরিবেশ সংরক্ষণ ও সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার লক্ষ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিচ ক্লিন আপ ক্যাম্পেইন’। এ কর্মসূচিতে তরুণদের সাথে নিয়ে নিজ হাতে সৈকত এলাকা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক, তরুণ–তরুণী ও পরিবেশকর্মী অংশগ্রহণ করেন। ইপসা (ণচঝঅ) ও কক্সবাজারে কর্মরত যুব সংগঠনগুলোর এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র সৈকতের প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
গতকাল শনিবার কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল জলতরঙ্গের সামনের সৈকতে আয়োজিত এই ক্লিন আপ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, যুব সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মেয়র আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুবসমাজের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এটি আমাদের অহংকারের বিষয়। এই সমুদ্র সৈকতকে পরিবেশবান্ধব এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এই লক্ষ্যে আমাদের এই সৈকতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। আমরা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এই সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখা।
‘বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কক্সবাজারের ১২টি যুব সংগঠনের সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ কেজি প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহযোগিতায় এবং ইপসার উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে ১২০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












