দিনে সুনসান, রাতের আঁধারে পাহাড় নিধন উৎসব

মীরসরাইয়ের সামনেরখিল

মীরসরাই প্রতিনিধি | শনিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সামনেরখিল এলাকায় রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও একই এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগে বন বিভাগের অভিযানের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জামিন নিয়ে এসে আবারও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে একই কার্যক্রম শুরু করেছে চিহ্নিত বালু দস্যুরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, করেরহাট ইউনিয়নের সামনেরখিল এলাকায় জেরু মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে ‘নাছিরের টিলা’ নামে পরিচিত পাহাড়টিতে পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে রাতে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পাইপ বসিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পানি ঢালা হচ্ছে। এতে পাহাড়ের মাটি ধ্বসে পড়লে সেই মাটি পার্শ্ববর্তী স্থানে সরিয়ে রাতের অন্ধকারে পিকআপ ভ্যান ভর্তি করে বিক্রি করার কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ সময় আরও দেখা যায়, যেখান থেকে পাহাড়ে পানি মারা হচ্ছে, ধ্বসের পর যেন পানি আবার আগের স্থানে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য বিশেষভাবে সুড়ঙ্গের মতো ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একই কৌশলে রামগড় সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত আরেকটি টিলাতেও মাটি কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলা উদ্দিন বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযানে গেলে আমাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন বন কর্মকর্তা আহত হন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর সংশ্লিষ্টরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি কালা মাসুদ নামে মামলার এক আসামি জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসেছে বলে বন বিভাগ জানতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, কালা মাসুদের বিরুদ্ধে পূর্বে আরও একাধিক বন মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট মামলায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া সহজ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দিনের বেলায় অভিযানে গেলে কাটা স্থানে পাইপ বা সরঞ্জাম পাওয়া যায় না। তবে পাহাড় ধ্বসের চিহ্ন থাকে। রাতের বেলায় কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য বৃহত্তর ও সশস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, বন বিভাগ যদি এই বিষয়ে আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, আমি সমপ্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এভাবে বন ধ্বংস চলতে দেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে শক্তিশালী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে তাদের পাওয়া যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসমৃদ্ধ ও শান্তির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধওমানে বেড়াতে যাওয়ার পথে ফটিকছড়ির একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু