দিনভর অবরোধের জেরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানকারী পর্যটকদের আগামী (১৩ অক্টোবর) মঙ্গলবারের মধ্যে সাজেক উপত্যকা ত্যাগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টার পর রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত: আজ ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকাল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হলো।’
মূলত রোববার দিনভর সাজেক সড়কে অবরোধ, আইন–শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের মুখোমুখি অবস্থান এবং পর্যটক আটকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় এই নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সাজেকে জেএসএস (জনসংহতি সমিতি) সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয় লোকজনকে ভয়ভীতি, হুমকি দিচ্ছে সংগঠনটি। তাদের বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর সাজেকে সমাবেশ করে জেএসএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। তারপরেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে।
এদিকে, রোববার দিনভর সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এতে করে সাজেকগামী ও সাজেক ফেরত পর্যটকরা আটকে যান। দুপুর ২টার দিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে আটকেপড়া পর্যটকদের সেনাবাহিনীর স্কটে করে ফেরানো হলে সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় তাদের আটকে দেয় অবরোধকারীরা।
অন্যদিকে, একই সময়ে বাঘাইহাট থেকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশ্য রওনা করা পর্যটকদেরকেও মাচালং বাজার এলাকায় আটকে দেয় অবরোধকারী। এতে সড়কের উভয়পাশে প্রায় ৩ ঘণ্টা আটকে পড়েন পর্যটকরা। পরে বিকাল ৫টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা এবং দুইদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়। বিকাল ৫টার পর থেকে সাজেক সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টার পর জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা এল।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি অবরোধ পালিত হয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে দুই দিনের সময় দিয়েছি এ দুদিনে দাবি আদায় না হলে পুনরায় অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাঘাইহাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. জসিম বলেন, দুপুর ২টার দিকে প্রায় ১ হাজার পর্যটক সাজেকের উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর স্কটে করে রওনা হয়। পরে সড়কের মাঝপথে অবরোধকারীরা তাদের আটক দেয়। অন্যদিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া পর্যটকরাও আটকে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে উভয় পাশে আটকেপড়া পর্যটকরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতে পেরেছেন।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দাবি পূরণের আশ্বাসে অবরোধকারীরা তাদের অবরোধ স্থগিত করেছেন। এরপরে সাজেকগামী পর্যটক ও সাজেক থেকে যেসব পর্যটক ফিরে যাচ্ছেন তাদের গাড়িগুলো চলাচল করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। সাজেক সড়কে যান চলাচল ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।












