চট্টগ্রামে নির্বাচনী এলাকা গুলোতে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিনদিন বাড়ছে। একই সাথে বাড়ছে নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনাও। নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বরাবরে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপর প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছেন। আচরণবিধি লক্সঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছেন ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটি।
এদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী এলাকা গুলোতে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা–অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগসহ সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ ভোটারের উদ্বেগ–উৎকন্ঠা বাড়ছে। গতকাল চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম–১৪ চন্দনাইশ আসনে এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উক্ত আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান বরাবরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ–এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজু। দাখিলকৃত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এলডিপি প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সানজিদা আফরোজ বৃষ্টি।
এ বিষয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় সিনিয়র সিভিল জজ আদালত সাতকানিয়া চৌকিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা চলছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে প্রার্থীদের আচরণবিধি লক্সঘনের ঘটনা বাড়ছে।
ফলে একের পর এক প্রার্থীকে শোকজ ও তলব করছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লক্সঘনের দায়ে গত ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অনুসন্ধান ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজ উদ্দিন এ নোটিশ দেন। এতে ওই প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করা হয়।
এদিকে আচরণবিধি লক্সঘনের দায়ে গত ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন এই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান রূপণ কুমার দাশ। বিচারিক কমিটিতে অভিযোগটি দাখিল করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী। নির্বাচনি আচরণবিধি লক্সঘনের অভিযোগে ১৩ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। চট্টগ্রাম–১৩ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ শাহরিয়ার শামস স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশের স্ব শরীরে অথবা মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হলে গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অবস্থিত সিনিয়র সিভিল জজ (৩য় আদালত)-এর অস্থায়ী কার্যালয়ে নোটিশের জাবাব দেন।
এদি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী এলাকা গুলোতে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা–অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে সাধারণ ভোটারের উদ্বেগ–উৎকন্ঠা বাড়ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করেছেন দল দুটির নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর দাবি, তাদের নির্বাচনী গণসংযোগে অতর্কিত হামলা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে তাদের ৭ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি, আমবাগানে অবস্থিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ অফিসে এসে ভাঙচুর ও সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে বহিরাগতরা। এসময় তারা প্রতিরোধ করেছেন।
এদিকে গত ২৭ জানুয়ারি সাতকানিয়া পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীর ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় বিএনপির দুই কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছমদর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।












