দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করতে হবে

ঢাকা সেনানিবাসে দরবারে প্রধানমন্ত্রী

| সোমবার , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশনা প্রদান করেন। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে এক দরবারে তিনি এ নির্দেশনা দেন। দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। খবর বাসসের।

তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব। এ সময় দেশের জন্য একটি ‘আধুনিক ও সময়োপযোগী’ সশস্ত্র বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ কারো আধিপত্য মেনে নেবে না, যে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারিত হবে পাস্পরিক সম্মান, স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে অনঢ় থাকে তাহলে বাংলাদেশ আরো নিরাপদ থাকবে, আরো মর্যাদাশীল হবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকর।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রাপ্য সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সর্বদা দায়িত্বশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, আপনারা দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল বাংলাদেশকে ভালোবাসবেন। প্রয়োজনে নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও সর্বক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেবেন। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ এগোবে দেশপ্রেমের শক্তিতেএমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আজকের এই দরবার থেকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, বাংলাদেশ এগোবে শৃঙ্খলা, সক্ষমতা, আত্মমর্যাদা এবং দেশপ্রেমের শক্তিতে। আর সেই অগ্রযাত্রায় আমরা আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীকে পাশে পেতে চাই।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যে কারণে গঠিত হয়েছে, সকল কাজে আমরা সেই উদ্দেশ্যকে সাথে রাখতে চাই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ইনশাআল্লাহ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, পেশাদার, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হবে।

সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণের মিলনায়তনের দরবারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) . একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা এবং কমান্ডের প্রতি আপনাদের অবিচল থাকতে হবে। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ক্রমাগত উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রকে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয়, বরং কৌশল এবং দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনে সমন্বয় এবং কৌশলগত চিন্তাশক্তির সংমিশ্রণ থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক হবে আস্থা, বিশ্বাস ও গভীর দায়িত্ববোধের। এর ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে এক অটুট বন্ধন। এই বন্ধনই আপনাদের শক্তি এবং প্রেরণা হিসেবে কাজ কর।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু শেষ ভরসার আশ্রয় হিসেবেই দেখেন না। বরং সাহস, দৃঢ়তা এবং নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও তারা আপনাদেরকে দেখেন। আপনাদের প্রতি জনগণের এই অকৃত্রিম আস্থা এবং ভালোবাসাই যেন আপনাদের অন্যতম চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নিজেকে সর্বতভাবে বিরত রাখতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধ করা সবার নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষত শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় বাংলাদেশের মর্যাদাকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। কারণ আপনি সেখানে শুধুমাত্র একজন সৈনিক নন। বরং বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি।

সশস্ত্র বাহিনী একটি রাষ্ট্রের শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাদারত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রেখে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা এসেছে। বর্তমান সময় যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে, বদলেছে নিরাপত্তার ধরন। আজ নিরাপত্তা মানে কেবল স্থল সীমান্তে সুরক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র, আকাশ সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো, সামুদ্রিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক কৌশগত প্রতিযোগিতা।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে শুধুমাত্র আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজনে সীমাবদ্ধ না থেকে পেশাগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। যাতে করে সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্মার্ট কার্ডে পুরুষের বদলে নারীর ছবি!
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬