ইতিহাসকে বিকৃত করে বা পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করে তার প্রকৃত সত্যকে বদলে দেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের মতো মহান অর্জনে কার কত অবদান, তা দলীয় ব্যাখ্যা নয় বরং দলিল, প্রমাণ ও জনগণের স্মৃতিই নির্ধারণ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই নিরপেক্ষ ইতিহাসের পরিবর্তে নিজেদের অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়েছে, ফলে নতুন প্রজন্ম একটি খণ্ডিত ইতিহাসের মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ প্রয়োজন সত্যকে স্বীকার করা এবং মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই এসব শক্তিকে আশ্রয় দিয়েছে, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর। তাই এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল, যা কোনোভাবেই বিকৃত করা উচিত নয়। এই ইতিহাসই আমাদের পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি। অতএব, আসুন আমরা ইতিহাসকে সত্যের আলোকে দেখি, বিভাজন নয় ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাই, এবং একটি সত্যনিষ্ঠ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলি।













