দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউনকে অপসারণ করল আদালত

| শনিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৫ at ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ঐতিহাসিক এক রায়ে প্রেসিডেন্ট ইউন সুকইওলকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই রায়ের পেছনে মূল কারণ ছিল গত বছরের শেষের দিকে তার বিতর্কিত সামরিক আইন ঘোষণা, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে আদালতে রায় ঘোষণার সময়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুন হিউংবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে প্রেসিডেন্ট ইউনের সামরিক আইন ঘোষণার জন্য দেওয়া প্রতিটি যুক্তিই অসংগত এবং অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে রাজধানীর রাস্তায় সৈন্য মোতায়েনের মাধ্যমে ইউন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছেন। খবর বিডিনিউজের।

বিচারপতি মুন বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী। এর মাধ্যমে তিনি শুধুমাত্র সংবিধানের প্রতি তার দায়িত্ব অস্বীকার করেননি, বরং কোরিয়ার জনগণের আস্থাকেও চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অবৈধই নয়, সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিপরীত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন কিছু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতি মুন তার রায়ের শেষে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলাফল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। তবে একজন বসা প্রেসিডেন্টকে অপসারণের রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্য যতই হোক না কেন, সংবিধান রক্ষা এবং গণতন্ত্রের শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্র এক কঠিন পরীক্ষা পার করল, যেখানে জনগণের অধিকার ও সংবিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো। এই রায়ের অর্থ এখন দেশটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অস্কার আরিয়াসের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তী নিবন্ধমার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক বসাচ্ছে চীন