থুতু দিয়ে শুরু, আগুন লাগিয়ে শেষ

ড্যাফোডিল-সিটি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ

| মঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার সাভারের খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলাভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগের পর গোটা এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাতভর সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার সকালে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি। তবে জানা গেছে, দুপক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই অবস্থার মধ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মীর আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা উজ্জল সরকার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তারা গানপাউডার নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। গেইটে আগুন দেয়। তারা আমাদের অ্যাকাউন্টস সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে হামলাভাঙচুরে তাদের ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঝগড়াবিবাদ, ভাঙচুর যা হয়েছে রাতেই হয়ে গেছে। আর এ ঘটনা কেন ঘটল, সেটি আসলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ভিতরে ঢুকতে পারিনি ভিতরে কী অবস্থা জানি না। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেল’ এর পাশে বসে ছিলো সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্য এক শিক্ষার্থী থুতু ফেললে অসর্তকতাবশত সেখান দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া করা ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাতে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢুকেন। এ সময় ক্যাম্পাসে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

হামলাভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিটি ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়। সকালে সিটি ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসেন ড্যাফোডিলের দুজন শিক্ষক। পরে নয়জনকে শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ড্যাফোডিলের প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও জানান প্রক্টর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআলম হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি
পরবর্তী নিবন্ধঢাকায় ট্রিপ্লেক্স, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িসহ ২০০ কোটি টাকার সম্পদ ফারইস্টের নজরুলের