থানচিতে এক সপ্তাহে ৮ মৃত্যু

ডায়রিয়ার প্রকোপ

বান্দরবান প্রতিনিধি | বুধবার , ১৫ জুন, ২০২২ at ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় দুর্গম দশটি পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে গত এক সপ্তাহে (৭জুন থেকে) ডায়রিয়ায় শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকায় থানচি মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের দুর্গম অনেকগুলো পাড়ায় প্রচন্ড গরমে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পাহাড়ি ঝিরি ঝর্ণার দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। পাড়াগুলো হচ্ছে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বড়মদক, আন্ধারমানিক, নারিষ্যা পাড়া, লংঙ্যান পাড়া, মেনতাং পাড়া, ইয়াংরে পাড়া, ইয়াংবং পাড়া, ঙাঁরেসা পাড়া, ম্রংগং পাড়া এবং সিং চং পাড়া। এছাড়াও থানচি সদরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায়ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে বর্তমানে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ৩০ জনের অধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন।
থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমীরণ বড়ুয়া বলেন, থানচি সদর থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার দূরবর্তী দুর্গম আন্ধারমানিক এলাকায় ডায়রিয়া প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিশুসহ ৫ রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আক্রান্ত রয়েছে আরও অনেকে। যারা দুর্গমতার কারণে চিকিৎসা নিতে থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে আসেনি। তবে মৃত্যুর খবর পাবার পর থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের দুজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ঔষুদপত্রও নিয়ে গেছে।
রেমাক্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুইশৈ থুই মারমা বলেন, প্রচন্ড গরমে এবং বৃষ্টির কারণে ঝিড়ি-ঝর্ণা-খালের দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে তার ইউনিয়নের দশের অধিক পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৭ জুন থেকে এ পর্যন্ত কয়েকটি পাড়াতে শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাড়াগুলো শিশু, বৃদ্ধ আরও অনেকে আক্রান্ত রয়েছে। তবে আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়, কিন্তু শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে বলে জেনেছি।
বিষয়ি নিশ্চিত করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে মেডিক্যাল টিম। দশ সদস্যের মেডিকেল টিমে দুজন মেডিক্যাল অফিসারও রয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকা হওয়ায় পরিস্থিতি কতটা উন্নতি হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নতুন করে কোনো মৃত্যু খবর পায়নি মঙ্গলবার। সোমবার পর্যন্ত ইউনিয়নের আক্রান্ত কয়েকটি পাড়াতে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য আমরা পেয়েছি।
এদিকে বান্দরবানের সিভিল সার্জন নিহার রঞ্জন নন্দি বলেন, প্রথমে প্রকোপ দেখা দেয়া আলীকদম উপজেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। খুব দ্রুত থানচি উপজেলার ডায়রিয়া পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে মেডিক্যাল টিম। আক্রান্ত পাড়াগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাঠানো হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাড়তি প্রস্তুতি
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আয়ু কমাচ্ছে সাড়ে ছয় বছর