ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল কিউবা, মেক্সিকো ছাড়ার পর নিখোঁজ দুই নৌকা

| রবিবার , ২৯ মার্চ, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

মানবিক সহায়তা সামগ্রী নিয়ে কিউবার পথে যাত্রা করা দুটি পাল তোলা নৌকা মেক্সিকো ছাড়ার পর সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

নৌযান দুটিকে খুঁজে বের করতে ক্যারিবিয়ান সাগরে এখন ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মেঙিকোর নৌবাহিনী বলেছে, তারা ফ্রেন্ডশিপ এবং টিগার মথ নামের নৌকা দুটি শনাক্ত করতে নৌতল্লাশি দল ও সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। নৌকা দুটিতে অন্তত ৯ জন ক্রু ছিলেন। মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যে নৌকা দুটির কিউবার রাজধানী হাভানায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

তবে এখন পর্যন্ত তাদের দিক থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তাদের পৌঁছানোর বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করার পর দ্বীপরাষ্ট্রটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট শুরু হয়। সে সঙ্কট মোকাবেলায় যেসব নৌযান দেশটিতে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে, এই দুটি নৌকা তাদেরই অংশ ছিল। নৌকাগুলো খুঁজে বের করতে এবং সেখানে থাকা ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতে থাকা সমস্ত শক্তি ব্যবহার করতে অঙ্গীকার করেছে মেঙিকোর নৌবাহিনী। নৌযান দুটি গত ২০ মার্চ মেঙিকোর সর্বচেয়ে পূর্বদিকে অবস্থিত রাজ্য কিনতারা রো’র ইসলা মুহেরেস থেকে রওনা হয়েছিল।

নৌকা দুটির ক্রু’দের মধ্যে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন। মেঙিকো জানিয়েছে, তারা আশপাশের দেশগুলো সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। ত্রাণ নিয়ে কিউবাগামী নৌবহরের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নৌযান দুটির ক্যাপ্টেন এবং ক্রুরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ নাবিক।

তাছাড়া দুটি জাহাজেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংকেত পাঠানোর আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছি এবং আমাদের বিশ্বাস, নাবিকরা সব বাধা পেরিয়ে নিরাপদে হাভানায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যাত্রার সময় দেওয়া ভিডিও বার্তায় ফ্রেন্ডশিপএর ক্যাপ্টেন আদনান স্টুমো বিবিসিকে বলেছিলেন, আমরা বিপুল পরিমাণ ত্রাণ এবং সংহতি প্রকাশ করা একদল কর্মী নিয়ে সরাসরি যাত্রা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা বলতে চাই যে, কিউবার জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করার এই অবিরত অবরোধ ও ধ্বংসলীলার পাশে আমরা দাঁড়াব না।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াসকানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিখোঁজ নৌযানগুলোকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই সহযাত্রী ভাইদের খুঁজে বের করা ও উদ্ধারে আমাদের দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দিনকয়েক আগেই কিউবার সরকার দ্বীপদেশটিতে সোলার প্যানেল, ওষুধ, শিশুখাদ্য, বাইসাইকেল ও খাবারসহ ১৪ টন ত্রাণ নিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছিল। ওই নৌযানের নাম দেওয়া হয়েছিল গ্রানমা ২., ১৯৫০র দশকে বিপ্লব শুরুর লক্ষ্যে কিংবদন্তি কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো গ্রানমা করেই কিউবায় ফিরেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দেশটির ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর মূলত স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন এনজিওই কিউবায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও লজিস্টিকস সঙ্কটে কিউবা বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে দেশজুড়ে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে, এ কারণে এর মধ্যেই কিউবাতে ৫০ হাজারেরও বেশি অস্ত্রোপচার বাতিল করতে হয়েছে। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি এবং কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর ট্রাম্প এখন কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দেশটির ক্ষমতা কাঠামো বদলাতে তৎপর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাতনির ওজনের সমান কয়েন উপহার দিলেন নানা
পরবর্তী নিবন্ধকলকাকলি উচ্চ বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান