তেলের সংকট নেই, তবুও পাম্পে গ্রাহকদের ভিড়

রাঙামাটি প্রতিনিধি | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও জেলা শহরের পাম্পগুলোতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে গ্রাহকদের বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে শহরের কল্যাণপুর, রাজবাড়ি, বনরূপা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পাম্পে জ্বালানি তেলের মধ্যে অকটেনের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের লাইন দেখা গেছে। এদিন দীর্ঘ লাইন না থাকলেও অন্যান্য সময়ে রাঙামাটির জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে এতো উপস্থিতি থাকে না।

গ্রাহকদের অনেকে অভিযোগ করেন, যার প্রয়োজন ২০০ টাকার তেল। তিনিও বেশি করে নিতে চাইছেন। যার আপাতত তেলের প্রয়োজন নেই, তিনিও রিজার্ভ করতে চাইছেন। যে কারণে পাম্পগুলোতে ভিড় বাড়ছে। অনেকে ধারণা করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে তেলের সংকট দেখা দেবে এবং দাম বাড়বে।

এদিকে, গত শুক্রবার বিকাল থেকে হঠাৎ করে রাঙামাটি জেলা শহরের জ্বালানি তেলের পাম্প ও দোকালগুলো বন্ধ করে দেয় মালিকরা। এতে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম জ্বালানি তেলের সংকট। এ সমস্যা নিরসনে শনিবার সকালে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেনরাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোর মালিক ও কর্মকর্তারা।

এসময় বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে আমরা তেল বিক্রয় করছি। কিন্তু শুক্রবার বিকাল থেকে অস্বাভাবিকভাবে চালকরা তেল নিতে থাকে। চাপ সামাল দিতে না পেরে আমরা দোকান পাম্প বন্ধ করে দিই। তবে শনিবার সকাল থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত পরিমাণ তেল প্রদান করা হচ্ছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, রাঙামাটি শহরে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তবে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নেবেন না। কোনো প্রকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শহর জুড়ে মাইকিং করা হবে। আমাদের সকলকে মিলে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এদিকে, দুপুর থেকেই রাঙামাটি জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য মাইকিং করেছে জেলা তথ্য অফিস। এছাড়া জেলা শহরের রিজার্ভ বাজার এবং লঞ্চঘাট এলাকায় জ্বালানি তেলের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন গোডাউন মনিটরিং করা হয়। এসময় ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের উভয়পক্ষকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রেস রিলিজ সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ার চূড়ামনিতে পাহাড় কেটে ইট তৈরি
পরবর্তী নিবন্ধ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন খালেদা জিয়া