কক্সবাজারের চকরিয়ায় বালুদস্যু কর্তৃক তিন সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিকরা এই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে।
এ সময় বক্তারা বলেন, উপজেলার হারবাংসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, বনবিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, মাটি কাটাসহ নানা পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে আসছে বালু ও মাটিখেকো চক্র। উত্তর হারবাংয়ে এসব বালুদস্যু ও পাহাড়খেকো সন্ত্রাসীদের গডফাদার নাজেম উদ্দিন। তার এই পরিবেশ বিধ্বংসী অপকর্ম অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড় সাবাড়ের ভিডিওচিত্র ও ছবি ধারণ করতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হন তিন সাংবাদিক।
আহতরা হলেন দৈনিক আজাদীর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক আমার দেশের চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক এবং দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে গত রোববার তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
বক্তারা বলেন, যাদের উপর হামলা হয়েছে তাদের সাংবাদিকতার বয়স বিশ বছরেরও বেশি। তাদের লিখেনিতে অনেক সমস্যার যেমন সমাধান হয়েছে। তেমনি অনেক সম্ভাবনারও জয় হয়েছে। গত রবিবার তারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে হারবাংয়ে একটি বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করতে সরেজমিনে গেলে বালু খেকো সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্মমভাবে হামলার শিকার হয়। তাদের প্রতি এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা–স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাংবাদিকরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম আর মাহমুদ, পেকুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছফওয়ানুল করিম, সাংবাদিক নেতা এ এম ওমর আলী, আবদুল মজিদ, এস এম হানিফ, মিজবাউল হক, একেএম বেলাল উদ্দিন, আলী হোসেন, সাইফুল ইসলাম খোকন, নাজমুল সাঈদ সোহেল, মনসুর রানা, মোহাম্মদ ফারুক, শাহজালাল শাহেদ, মনিরুল আমিন, রিদুয়ানুল হক প্রমুখ।











