ভারতের সঙ্গে বিএনপির আপসের যে অভিযোগ তুলেছে জামায়াত, সেটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার’ বলে বর্ণনা করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। খবর বিডিনিউজের।
আগের দিন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লায় এক জনসভায় বলেন, একটি দল নতুন করে ভারতের সাথে আপোস করে আবার দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায়। এদেশের মানুষ, ৪ কোটি যুবক এটা হতে দেবে না ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি নেতা মাহদী আমিন বলেন, দেখুন একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন…তিনি একটি মিডিয়ার কথা বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি, কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেনও না। কারণ যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন, সেটির ন্যূনতম কোনো বাস্তবতা নাই, ন্যূনতম কোনো সত্যতা নাই। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, অপপ্রচার?
আর যদি উনাকে ভুল তথ্য প্রদান করা হয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য করা হয়, তাহলে কি সেটা উনার অজ্ঞতা? আমরা মনে করি এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের সাথে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি, যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে, কোনো অপপ্রচার, অপকৌশল, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই তো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেখানে হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতায়ন.. এটিকে কেন্দ্র করেই তো বিএনপির রাজনীতি জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
দেশের স্বার্থ রক্ষায় দলের অবস্থান ও অতীতের কর্মসূচির তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি তিস্তার পাড়ে, পদ্মার পাড়ে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিশাল প্রোগ্রাম করা হয়েছে, সমাবেশ করা হয়েছে; এটি তো বিএনপির রাজনীতি। সীমান্তে ফেলানী হত্যার পরে সবার আগে প্রতিবাদ করেছিল বিএনপি, রাজপথে নেমে এসেছিল বিএনপি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এটি তো শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি। সুতরাং বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের নেতার নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করবে। এই রকম অপপ্রচার না হওয়া, সেটি আমাদের প্রত্যাশা।”












