ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া–৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে তিনি প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে দেড় দশক নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশে ফেরা বিএনপি নেতা এও জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা ছিল, যার সবগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আয়কর বিবরণীতে ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে পৌনে ৭ লাখ টাকা আয়ের তথ্য দিয়েছেন তারেক রহমান। ৫৭ বছর বয়সী এ রাজনীতিক বগুড়া ছাড়াও ঢাকা–১৭ আসনে (গুলশান–বনানী) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব তথ্য প্রচারের বিধান রয়েছে নির্বাচনি আইনে। হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের নামে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ২০০৪ সাল থেকে দায়ের হওয়া ৭৭টি মামলা থেকে ধাপে ধাপে অব্যাহতি পেয়েছেন।
শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/বন্ড/ব্যাংক আমানত থেকে তারেক রহমানের আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। নগদ অর্থ ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা, স্ত্রীর নামের ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা রয়েছে। বিএনপির নেতার এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার; আর স্ত্রীর এফডিআর রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার। হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের নিজের, স্ত্রীর বা নির্ভরশীল কারো কোনো দায়, কোনো সরকারি পাওনা ও ঋণ নেই। খবর বিডিনিউজের।
আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্পদ আছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। সবশেষ অর্থবছরে তার আয়ের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, যার আয়কর দিয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। আর চিকিৎসক স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। সবশেষ অর্থবছরে তার আয়ের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা, যার আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।
কোন বছরে কয়টি মামলায় অব্যাহতি
বিএনপি নেতা তারেক রহমান তার বিরুদ্ধে হওয়া ৭৭ মামলার সব ক’টিই থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বেশির ভাগ মামলা দায়ের হয় ২০০৪, ২০০৭ ও ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের মার্চের জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় একটি মামলা খারিজ ও বেকসুর খালাস হয় ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল। সবচেয়ে বেশি ৪২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে।
বাকিগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে একটি, ২০১৫ সালে তিনটি, ২০১৬ সালে আটটি, ২০১৭ সালে ছয়টি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০১৯ সালে পাঁচটি, ২০২০ সালে একটি, ২০২১ সালে একটি এবং ২০২২ সালে পাঁচটিতে খালাস পান তারেক রহমান।
একনজরে তারেক রহমানের হলফনামা
তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান, মা বেগম খালেদা জিয়া, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জায়মা জারনাজ রহমান। শিক্ষাগত যোগ্যতা : উচ্চ মাধ্যমিক। পেশা : রাজনীতিক। বর্তমান ঠিকানা : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান অ্যাভেনিউয়ের এন ই–ডি–৩/বি নম্বর বাসা। জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর। (তবে আয়কর বিবরণীতে তার জন্ম তারিখ ২০ নভেম্বর ১৯৬৭ সাল দেখানো হয়েছে)
আয়ের উৎস : শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/বন্ড/ব্যাংকের আমানত, পরিমাণ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদ : নগদ/ব্যাংকের জমা ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা; স্ত্রীর নামে জমা ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। শেয়ার ৫ লাখ টাকার, কোম্পানির শেয়ার ৪৫ লাখ টাকা এবং কোম্পানির ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। নিজের সঞ্চয়পত্র আমানত ২০ হাজার টাকা, এফডিআর ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; স্ত্রীর সঞ্চয়ী আমানত ২০ হাজার টাকা, এফডিআর ৩৫ লাখ টাকা। অর্জনকালীন স্বর্ণ দুই হাজার ৯৫০ টাকার (অধিগ্রহণকালে মূল্য) এবং এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকার আসবাব।
স্থাবর সম্পদ রয়েছে অর্জনকালীন ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ২.০১ একর ও ১.৪ শতাংশ জমি; নিজের নামে ২.৯ শতাংশ জমি দেখিয়েছেন। যৌথ মালিকানায় ১১১.২৫ শতাংশ জমি ও ৮০০ বর্গফুট দোতলা ভবন রয়েছে।












