তারেক রহমানের অরাজনৈতিক সফরে ‘রাজনৈতিক সুফল’ পাবে বিএনপি

বেগম জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে ২০ বছর পর আসছেন চট্টগ্রাম

মোরশেদ তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রাম আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তারেক রহমান। ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে তার মা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সফর। আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারপ্রচারণায় অংশ নেবেন না তিনি। ‘ধর্মীয় ও সামাজিক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী রোববার উত্তর বঙ্গের নয় জেলায় চারদিনের সফরে যাবেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে তিনি কক্সবাজার হয়ে আসবেন চট্টগ্রাম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান অরাজনৈতিক সফর করলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশেই যার সুফল পাবে বিএনপি। কারণ তারেক রহমানের আগমনে উজ্জ্বীবিত হবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ রেশ থেকে যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত। কর্মীদের এ উচ্ছ্বাস ধরে রেখে তা কাজে লাগতে পারলে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা মাঠের রাজনীতিতে লাভবান হবেন। বিষয়টি অবশ্য আজাদীর কাছে স্বীকার করেছেন নগর বিএনপির একাধিক নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী।

বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছেতারেক রহমান ১৮ জানুয়ারি বিমানে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরামের কক্সবাজার পেকুয়ার বাড়িতে যাবেন তিনি। এরপর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গাড়িতে করে সড়কপথে চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। এরপর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এরপর সড়কপথে ঢাকা যাওয়ার পরিকল্পনা আছে দলের। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে কোনো পথসভায় বক্তব্য রাখার পরিকল্পনা নেই। তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় গতকাল সন্ধ্যায়।

এদিকে তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আসার বিষয়টি আজাদীকে নিশ্চিত করে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান গতরাতে বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কক্সবাজার আসার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে আসার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে চট্টগ্রাম আসার বিষয়টি কনফার্ম করা হয়েছে। তিনি জমিয়তুল ফালাহ’য় দেশনেত্রীর জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করবো। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় যুুগেরও বেশি সময় পর তারেক রহমান চট্টগ্রাম আসবেন। এ খবরে নেতাকর্মীরা অনেক উচ্ছ্বসিত। তার আগমন নেতাকর্মীদের আরো বেশি চাঙ্গা করবে।

২০ বছর পর আসছেন তিনি : জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রাম এসেছিলেন। সেবার তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই হিসেবে তারেক রহমান চট্টগ্রাম আসছেন ২০ বছর ৭ মাস পর। এর আগে তিান ২০০৩ সালে বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলনে অংশ নিতে চট্টগ্রাম আসেন। এছাড়াও ২০০২ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম সার্কিট হউসে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন।

রাজনৈতিক সুফল পাবে বিএনপি : তারেক রহমানে সফরে বিএনপি রাজনৈতিক সুফল পাবে কীনা জানতে চাইলে নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। চট্টগ্রামে ওনার আগমনকে ঘিরে বিএনপিসহ অন্যান্য দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ জমিয়তুল ফালাহ আসবেন। উনার প্রত্যাবর্তনের দিনই তো দেখা গেছে কী পরিমাণ মানুষ উনাকে ভালোবাসে। কাজেই চট্টগ্রামে তার সফরেও সাধারণ মানুষ উজ্জ্বীবিত হবে।

নগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব মো. এরশাদ উল্লাহ আজাদীকে বলেন, আচরণ বিধির কারণে তিনি (তারেক রহমান) নির্বাচনী কোনো প্রচারপ্রচারণায় অংশ নেবেন না। কিন্তু তার আগমনে রাজনৈতিক প্রভাব তো পড়বে, এটা অসম্ভব কিছু না। নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। ২১ বছর পর তিনি চট্টগ্রামে আসছেন। এতে নেতাকর্মীরা আরো উৎফুল্ল হবেন। যদিও দোয়া মাহফিলে আসবেন, কিন্তু দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা হবে, যা নেতাকর্মীদের জন্য অনেক বড় সাফল্য মনে করি। নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মানঅভিমান থাকে, সেগুলোরও অবসান হবে। মানঅভিমান ভুলে যারা এখনো কাজ করছে না তারাও উজ্জ্বীবিত হয়ে দলের জন্য কাজ করবে। এই যে নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবেন সেটা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কন্টিনিউ থাকে তাহলে এর সুফল অবশ্যই আমরা পাব।

তারেক রহমানের আগমনে বিএনপি’র চট্টগ্রামের প্রার্থীরা কোনো সুফল পাবেন কীনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান আজাদীকে বলেন, অবশ্য সুফল পাব। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে সারা দেশেই জনমানুষের দল বিএনপির পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। তিনি চট্টগ্রামে আসলে সেই হাওয়া এই অঞ্চলেও দলের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে বলে আমরা আশা করছি। একইসঙ্গে তার আগমন চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনৈতিক গতিও বৃদ্ধি পাবে। নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবেন। সাধারণ ভোটাররাও উৎসাহ পাবেন। তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি। বিদেশে থাকাবস্থায় উনার কথাবার্তায় মানুষ আশার আলো দেখতেন। দেশে আসার পর উনার কর্মকাণ্ড, দেশের উন্নয়নে নিয়ে উনার পরিকল্পনাসহ সবকিছু মিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ তাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার উনাকে আগামীর বাংলাদেশের নেতা হিসেবে এক্সেপ্ট করেছেন। কাজেই চট্টগ্রামে তার আগমন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এতে উজ্জ্বীবিত।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল আলম রাসেল আজাদীকে বলেন, দীর্ঘদিন পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান চট্টগ্রাম আসবেন, এটা দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অনেক আনন্দের খবর। সাধারণ মানুষও এ খবরে উজ্জ্বীবিত। কারণ অতীতে উনার মধ্যে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জন্য আগ্রহ দেখেছি। সামনে নির্বাচন। দেশবাসী যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে তাহলে অতীতের ন্যায় সামনেও চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি আন্তরিক হবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৮ বছর পর আমেরিকা থেকে এল ভুট্টা
পরবর্তী নিবন্ধচবি ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ৫২.৩৯ শতাংশ