তানজিদ হাসানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পর রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পাত্তাই দেননি। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের শিরোপা জিতেছে রাজশাহী। একতরফা ফাইনালে চট্টগ্রামকে তারা হারিয়েছে ৬৩ রানে।
মিরপুরে গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন তানজিদ। আগের ১২ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ফাইনালে তিনিই উপহার দেন ৭ ছক্কায় ৬২ বলে ১০০ রানের দারুণ ইনিংস। এটি তার বিপিএলে তৃতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিপিএলে তিন শতকের স্বাদ পেয়েছেন তানজিদ। বিপিএল ফাইনালে তিন অঙ্কের রানের প্রথম ব্যাটারও তিনিই।
তানজিদের সেঞ্চুরির পরও রাজশাহী বিশাল কোনো স্কোর গড়তে পারেনি। ২০ ওভারে তারা তুলেছে ১৭৪ রান। চট্টগ্রাম মোটেও লড়াই করতে পারেনি, গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১১ রানে। আগের ম্যাচে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করছিলেন বিনুরা ফার্নান্দো। ফাইনালে ৪ উইকেট নেন তিনি মাত্র ৯ রান দিয়ে। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ে তিন উইকেট নেন স্পিনার হাসান মুরাদ।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শিরোপা জিতল বিপিএল অভিষেকেই, তবে রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির এটি দ্বিতীয় শিরোপা। চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজির শিরোপা অধরা রয়ে গেল এবারও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মালিকানা বদলের পর বিসিবির তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম দলের ফাইনালে পৌঁছানোও কম কৃতিত্বের নয়। ফাইনালের আগে রাজশাহীর সঙ্গে তাদের তিন লড়াইয়ের দুটিই জিতেছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের মূল শক্তি ছিল বোলিং, তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ম্যাচটিতে সেই আক্রমণ ধার হারায়। বিশেষ করে তানজিদের সামনে বোলাররা বারবার খেই হারায় এবং সহজ সুযোগ দেন।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীর শুরুটা খুব আগ্রাসী ছিল না। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারালেও রান তোলে তারা ৪০। দুটি করে চার ও ছক্কা মেরে তানজিদ তখনই আভাস দিয়ে দেন। সত্যিকার অর্থে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি পাওয়ার প্লে শেষে। টানা দুটি ছক্কা মারেন শেখ মেহেদি হাসানকে, এক ওভারে দুটি মারেন মির্জা বেগকে। পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি মাত্র ২৯ বলেই। ১০ ওভারে রাজশাহী তোলে ৮২ রান, যার মধ্যে তানজিদের রান ৫১। পরের ওভারে থামে উদ্বোধনী জুটি; সাহিবজাদা ফারহান আউট হন ৩০ বলে ৩০ রান করে।
তানজিদ ছুটতে থাকেন নিজের স্কিল ও প্রতিপক্ষের সহায়তায়। ৫৪ রানে আমির জামালের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্কয়ার লেগে, সহজ সেই সুযোগ মুকিদুল ইসলাম মিস করেন। তানজিদের সঙ্গে উইলিয়ামসনের জুটিতে আসে ৪৭ রান। শরিফুলের বলে চোখধাঁধানো এক শটের ছক্কা মারের পর পরের বলেই উইলিয়ামসন আউট হন ১৫ বলে ২৪ রানে। তানজিদ ছুটতে থাকেন তিন অঙ্কের পথে। জামালের এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারির মাধ্যমে আবার জীবন পান ৮৮ রানে, এবার ক্যাচ ছাড়েন আসিফ আলি। ৯১ থেকে শেখ মেহেদিকে ছক্কায় পৌঁছে যান তিনি শতরানের কাছে। পরের ওভারে শেষ পর্যন্ত ধরা দেয় মাইলফলক। আউট হন পরের বলেই।
ইনিংসের শেষ বলে নাজমুল হোসেন শান্তকে আউট করে বিপিএলে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম (২৬), ছাড়িয়ে যান গত আসরে তাসকিন আহমেদের রেকর্ড (২৫)।
শেষে রাজশাহী খুব বেশি রান তুলতে না পারলেও, সেটিই চট্টগ্রামের জন্য পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়ায়। রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারেই বিদায় নেন মোহাম্মাদ নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়। হাসান নাওয়াজ একটি করে ছক্কা ও চার মেরে আউট হন। ওপেনার মির্জা বেগ আউট হন ৩৬ বলে ৩৯ রানে। মিডল অর্ডারও সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। আসিফ আলি করেন ১৬ বলে ২১ রান। শেষের অনেক আগেই কার্যত লড়াই শেষ হয়ে যায়।
ধুঁকতে ধুঁকতে চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় ১৩ বল বাকি থাকতেই। ১৭.৫ ওভারে তারা তুলতে পারে মাত্র ১১১ রান। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন রাজশাহীর তানজিদ হাসান।












