কক্সবাজারের চকরিয়ায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জের ধরে ছুরিকাঘাতে শেফায়েত হাবিব (২১) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়। ছুরিকাঘাতে ওই যুবকের পেটের নাড়িভুড়িও বের হয়ে গেলে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে সে মারা যায় বলে পরিবার জানিয়েছে।
এর আগে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়া বাজার স্টেশনের কাছে অনুশীলন একাডেমির সামনে শেফায়েত হাবিবের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় স্থানীয় বখাটে যুবক তারেকুল ইসলাম মিশুক (২৫)। এ সময় তারেক কোমর থেকে ছুরি বের করে শেফায়েতের পেটে চালিয়ে দেয়।
নিহতের পরিবার সূত্র জানিয়েছে– আর কদিন পরেই শেফায়েত হাবিবের দুবাই চলে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য পাসপোর্ট ও ভিসাও চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু দুবাই যাওয়ার আগেই তাকে প্রাণ দিতে হলো। নিহত শেফায়েত হাবিব একজন ভাল ফুটবল খেলোয়াড়ও ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে– মোবাইল চুরির বিষয় নিয়ে সোমবার রাতেও দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর পর একই বিষয় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ফের তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় তারা। এ সময় তারেকুল ইসলাম মিশুক ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হয় শেফায়েত হাবিব।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শেফায়েত হাবিবকে ছুরিকাঘাত করার পর পরই দ্রুত পালিয়ে যায় মিশুক। তবে পুলিশ তাকে আটক করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান শুরু করেছে। শেফায়েত হাবিব পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কালাগাজী সিকদার পাড়ার দুবাই প্রবাসী শাহাব উদ্দিনের পুত্র। অপরদিকে ছুরিকাঘাতকারী মিশুকের বাড়ি পাশের ইউনিয়ন বিএমচর–এ। সে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্কুলপাড়ার আবু বক্করের ছেলে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, ‘ছুরিকাঘাতকারী বখাটে যুবক তারেকুল ইসলাম মিশুককে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’












