যে সংকট নিয়ে আমরা কথা বলি না, সেটাই ধীরে ধীরে সবচেয়ে ভয়ংকর আকার নেয়। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ঠিক তেমনই একটি বাস্তবতা। এটা চোখে দেখা যায় না, খুব বেশি উচ্চকণ্ঠও নয়–কিন্তু এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে একধরনের নীরবতা কাজ করে। কেউ মানসিক চাপ বা কষ্টের কথা বললেই তাকে দুর্বল, ভীত বা অতিরিক্ত সংবেদনশীল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেক তরুণ নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারে না, সবকিছু চেপে রাখতে শেখে।
তরুণদের মানসিক চাপের বড় একটি কারণ হলো অনিশ্চয়তা। পড়াশোনা শেষ করেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই। ভালো ফলাফল, উচ্চশিক্ষা–সবকিছু অর্জনের পরও জীবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘদিন এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে বসবাস করতে করতে অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ। বাস্তব জীবনে সাফল্য আসে ধীরে, কিন্তু অনলাইন দুনিয়ায় সবকিছু মুহূর্তেই রঙিন ও নিখুঁত মনে হয়।
পরিবারও অনেক সময় না বুঝেই এই চাপ বাড়িয়ে দেয়। আগে যৌথ পরিবারে সমস্যা শেয়ার করার মানুষ বেশি ছিল, এখন একক পরিবারে সেই সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। অনেক তরুণ নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখে দেয়।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনও খুব সীমিত। যেটুকু আছে, সেটিও নিতে মানুষ ভয় পায়, লজ্জা পায়। কাউন্সেলিং বা থেরাপিকে এখনো অনেকেই অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসিতা মনে করেন। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকারের অংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পরিবারকেও শিখতে হবে–সব সময় সমাধান দিতে হয় না, অনেক সময় শুধু মন দিয়ে শোনাটাই সবচেয়ে বড় সহায়তা।
সবচেয়ে জরুরি হলো আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তরুণরা যদি মানসিকভাবে সুস্থ না থাকে, তাহলে উন্নয়ন শুধু পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নীরবতা আর অবহেলা এই সংকটের সমাধান নয়। এখনই সচেতন হওয়ার সময়।











