দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মা মাছ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনার কমতি নেই। চলছে বিলুপ্ত প্রজাতির ডলফিন রক্ষায় নানা গবেষণা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নদী পাড়ে স্থাপন করা হয়েছে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও নদী পাড়ের বিভিন্নস্থানে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এছাড়া জালপেতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শিকারিরা নদীতে চোরা জাল পেতে ধরছে মা মাছ। জালে আটকা পড়ে বা নৌযানের পাখার আঘাতে বেঘোরে মারা পড়ছে ডলফিন।
হালদা বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়ার মতে, এ পর্যন্ত ৩৪টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। অধিকাংশ মরা ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হয় জালে আটকে অথবা যান্ত্রিক নৌযানের ডুবন্ত পাখার আঘাতে ডলফিনগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, নদীতে অবৈধ জালপাতার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। অবৈধজালপাতা সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২৪ মে মঙ্গলবার হালদা নদী থেকে একটি মৃত গাঙ্গেয় ডলফিন উদ্ধার করা হয়। মৃত এই জলজপ্রাণির মুখে ছেঁড়া জাল আটকে ছিল। নদী পাড়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদী পাড়ের কিছু লোভী মৎস্যজীবী এখনো নদীতে জাল পেতে মাছ মারে। নদীর সংযুক্ত খালের মুখে ঘেরজাল বসিয়ে তারা মাছ শিকার করছে। উপজেলা প্রশাসন ও নৌপুলিশের ভাষ্য, তারা অভিযান চালিয়ে প্রতিদিন নদী থেকে আটক করছে হাজার হাজার মিটার জাল, ফুটো করে দিচ্ছেন মাছ শিকারিদের নৌকা। খবর নিয়ে জানা যায়, নৌপুলিশ, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল, বড়শি জব্দ করা তথ্য প্রকাশ করলেও এ সংক্রান্ত মামলা ও অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তথ্য মতে, গত ৫ মাসে হালদা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। একই সময়ে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসনের ৪০টির অধিক অভিযানে ৭২ হাজার ৫০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে একাধিক নৌকা ও বড়শি জব্দ করা হয়েছে। সবমিলে জাল জব্দের পরিমাণ ৩ লাখ ২২ হাজার ৫০০ মিটার। মূল্য ৪০ লাখের বেশি।
রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযুষ প্রভাকর বলেন, নদীর মা মাছ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন মাঠে আছে। সদরঘাট থানা নৌপুলিশের অফিসার ইনচার্জ এবিএম মিজানুর রহমান বলেছেন, হালদার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে জালপাতা হচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।












