কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্যাপ ইয়ার্ডে সংঘটিত ভয়াবহ আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নানের স্বাক্ষরিত আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তা প্রধান, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, জেলা প্রশাসকের আদেশ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত হলেই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লার অংশে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান মহেশখালীর ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিম। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মহেশখালী, চকরিয়া এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব দুটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পথশিশুদের আনাগোনার কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত।
মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, রাত ৯টার পর স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডের গুদামে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য এডিসি (রাজস্ব) কে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।












