ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও গভীর

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক । ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বাংলাদেশ । রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে সংলাপ করবে চীন

| শুক্রবার , ২৮ মার্চ, ২০২৫ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চীন পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে উভয় দেশ বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় বাড়াতেও একমত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং হাইনানের উপকূলীয় শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন। তিনি আরও বলেন, চীন আশা করে, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধি অর্জন করবে। খবর বাংলানিউজের।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওয়ানচায়না নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে ঢাকা গর্ববোধ করে। বৈঠকে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে এবং চীনা ঋণের সুদের হার তিন শতাংশ থেকে একদুই শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর কমিটমেন্ট ফি মওকুফের আহ্বান জানায়।

প্রধান উপদেষ্টা চীনের তৈরি পোশাক কারখানা, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, চিপ উৎপাদন এবং সৌর প্যানেল শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর সহজ করতে বেইজিংয়ের সহায়তা চান। উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের দুই বছর পর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, তার দেশ মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের উন্নয়নেও অর্থায়ন করবে। উপপ্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত বছর চীন বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির জন্য একটি প্রোটোকল সই করেছে।

চলতি বছরের গ্রীষ্মকাল থেকেই বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। বেইজিং কাঁঠাল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জলজ পণ্য আমদানি করতেও আগ্রহী, যেন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিশাল ব্যবধান কমানো যায়। চীনা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি স্কলারশিপ দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরইমধ্যে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

উপপ্রধানমন্ত্রী ঢাকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার ক্ষেত্রে চীনের অর্থায়নের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রচেষ্টায় চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে সংলাপ করবে।

অধ্যাপক ইউনূস চীনের নেতৃত্বের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বৃহস্পতিবারের এই বৈঠক ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশচীন অংশীদারত্বের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করল। তিনি বলেন, আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করার সংকল্প নিই, যেন আমাদের দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক অংশীদারত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবেইজিং পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা, চীনা প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে বৈঠক আজ
পরবর্তী নিবন্ধটানা ৯ দিনের ঈদের ছুটি আজ থেকে