ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী৭৪ ফ্লাইট বাতিল

বিমান বন্দরেই থাকছেন অনেকে

| সোমবার , ২ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শনি, রবি ও আজ সোমবার এসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের আবাসনসহ নানা ব্যবস্থা করা হলেও গতকাল রোববার যাত্রীদের অনেকেই বিমান বন্দরের টার্মিনালেই দুদিন ধরে থাকতে দেখা গেছে। খবর বিডিনিউজের।

ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালাতে শুরু করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের জেদ্দা ও মদিনা ফ্লাইটের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ করেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইসরায়েলের আকাশসীমাও। হামলা হয়েছে কুয়েত বিমানবন্দরে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহারাইন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও দোহার বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকাতেও।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানিয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার মোট ২৩টি ফ্লাইট প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। এর মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি করে, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএসবাংলার ছয়টি এবং বিমানের ১১টি ফ্লাইট ছিল।

এরপর গতকাল সবচেয়ে বেশি ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালামএয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএসবাংলার চারটি এবং বিমানের নয়টি ফ্লাইট রয়েছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত আরো ১১টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি এবং গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে ওই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একাধিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাত্রীরা যেন সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানবন্দরে আসেন। তবে যাত্রীদের অনেকে বলছেন, ফ্লাইট কখন ছাড়বে এই তথ্য যথাসময়ে পাবেন কি না সেই বিভ্রান্তির কারণে তারা বিমানবন্দরের টার্মিনালেই অবস্থান করছেন। সৌদি আরবের ফ্লাইটগুলো ছাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই বিমানের মদিনা ও জেদ্দাগামী দুটো ফ্লাইটের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দপ্তরের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদেরও বিমানবন্দরে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। তবে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় কমছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমদ খাইয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরকে যৌন নিপীড়ন, ২০ হাজার টাকায় ‘সমাধান’
পরবর্তী নিবন্ধওরস নেই, তবু প্রতিদিন ওরস বিরিয়ানি