ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ম অমান্য করে থ্রি–হুইলার, সিএনজি অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়ছে। হাইওয়ে পুলিশকে কখনো কখনো আইন প্রয়োগ করতে দেখা গেলেও বাস্তবে তার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় মহাসড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, যা নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধূমঘাট থেকে সিটিগেটের চট্টগ্রাম অংশের বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে সিএনজি–থ্রি হুইলারের দৌরাত্ম্য এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি নিয়ে চলাচলই যেন দুঃসাধ্যকর হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি নয়দুয়ারিয়া এলাকায় অতর্কিত একটি সিএনজি সড়কে উঠার পড়ায় তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কায় এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। কিছুদিন আগে বড়তাকিয়া এলাকায় ট্রাকচাপায় সিএনজি আরোহি দুই শিক্ষাথীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত একমাসে এই ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অন্ত:ত অর্ধশত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আরও উদ্বেগের বিষয় হলো কেউ কেউ আবার নিয়ম অমান্য করে অহরহ উল্টো পথে গাড়ি চালাচ্ছেন। যা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির স্বভাবজাত কারন। মহাসড়কে চলাচলকারী মিঠাছরা থেকে মীরসরাই আসা সিএনজি যাত্রী নাছির উদ্দিন ভূঞা বলেন, প্রায়ই উল্টো পথে চলাচলকারি তাঁর গাড়ির পাশ দিয়েই নিষিদ্ধ সিএনজিসহ অনেক গাড়িকে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে চলাচল করতে দেখা যায় আবার ব্যাটারি রিক্সার ও দাপট বাড়ছে মহাসড়কে যা আরো উদ্বেগজনক।
এই বিষয়ে এই অঞ্চলের দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: জাকারিয়া বলেন, মহাসড়কে কিছু বিশৃঙ্খলাকারী থ্রিহুইলারকে শায়েস্তা করতে গেলে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তখন দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ তার রিজিকে আমরা আঘাত আনছি বলে আমাদের সমালোচনা শুরু করে। তাই আমাদের সবাইকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পাশাপাশি চলাচলকারী সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিজেরা আগে ট্রাফিক নিয়ম মানতে হবে। সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা দেখালে অবশ্যই সকলেই নিয়ম ও আইনকে শ্রদ্ধা করবেন। তিনি এই বিষয়ে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এ বিষয়ে মীরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, শুধু মহাসড়কে নয় সর্বত্র শৃংখলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমাদের সবাইকেই আন্তরিক হতে হবে, আবার সবার আগে নিজেরাই সচেতন হতে হবে। এই বিষয়ে চিকিসক প্রফেসর ডা: জামশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাণহানির মর্মান্তিক খবরে উঠে আসে নানা পেশার মানুষের নাম। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সমপ্রসারণের পাশাপাশি আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশ তরুণ, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মহাসড়ক গুলোতে দ্রুতগতির যানবাহন, অপরিকল্পিত ওভারটেকিং এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাব বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সকল বিষয় থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন বিকল্পহীন। তিনি অত্র উপজেলা এলাকায় একটি ট্রমা সেন্টারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। সেই দাবি আবারো উত্থাপন করেন।













