খাগড়াছড়িতে চলতি মৌসুমে হলুদের ভালো ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো উৎপাদনে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হলুদ চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ হলুদ প্রায় ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাগড়াছড়ির এই হলুদ এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার শ্যামবাজার, চট্টগ্রাম ও নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলার দীঘিনালা, মাটিরাঙা, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, লক্ষীছড়ি ও সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ের ঢালু জমিতে ব্যাপকভাবে হলুদের আবাদ করা হয়েছে। চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এখন লাভের মুখ দেখছেন।
দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের চাষি রবি রঞ্জন চাকমা জানান, এ বছর আমাদের বিহার এলাকায় কয়েক একর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ অনুকূল আবহাওয়ায় হলুদের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কাঁচা হলুদ উত্তোলন শেষে তা শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ৭ হাজার ২০০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারমূল্য ৭ হাজার টাকা।
আরেক হলুদ চাষি প্রিয় শংকর চাকমা বলেন, পাহাড়ি জমিতে হলুদ চাষ তুলনামূলক সহজ ও লাভজনক। বৈশাখ–জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণ করার পর জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি থেকে হলুদ তোলা শুরু হয়। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। যদি দামের এই ধারা বজায় থাকে, তবে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে হলুদ চাষ করব।
স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে হলুদ কেনাবেচা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে কৃষকদের কাছ থেকে হলুদ কিনে নিচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়ির হলুদের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা রয়েছে। এখানকার হলুদ রঙে উজ্জ্বল ও মানসম্মত। তাই আমরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিমণ প্রায় ৭ হাজার টাকায় হলুদ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০০ মণ হলুদ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়েছি।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি হলুদ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ টন থেকে ৪ টন। তিনি আরও বলেন, এ বছর কৃষক হলুদের ভালো দাম পেয়েছে। হলুদের উৎপাদনও বেশ ভালো হয়েছে। এখন প্রতিটি হাটে হলুদ বেচাকেনা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে পুনরায় কৃষক হলুদ উৎপাদন শুরু করবে।












