ঢাকা-ওয়াশিংটন চুক্তিতে কী আছে, যা জানাল সরকার

| সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামপ্রতিক চুক্তি ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সমপ্রসারণে সহায়ক হবে’ বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তিতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য ‘বিশেষ সুবিধা’ থাকার কথাও বলেছে সরকার। গেল ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হয় ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি)। খবর বিডিনিউজের।

চুক্তিতে বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। কিন্তু চুক্তিতে এর বাইরে কী কী আছে, সে বিষয়ে এতদিন সরকারের তরফে কিছু বলা হয়নি। এরমধ্যে রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির শর্ত, শুল্ক কাঠামো ও বাজার সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরে সরকারপ্রধানের কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় নয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে সরকার শুল্ক হার ১৯ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয়েছে।

চুক্তিতে যেসব বিষয় : সরকারের ভাষ্য, চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ আগে থেকেই ডব্লিউটিও ট্রিপস, আইএলওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে থাকায় নতুন কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ হয়নি দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বরং বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।’ সরকার বলছে, চুক্তিতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২৫০০টি পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও কাঠজাত পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার ১৩২ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সরকার বলছে, এর মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টি পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যে পাঁচ বছরের মধ্যে এবং ৬৭২টি পণ্যে ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে। ৩২৬টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি। সরকার বলছে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পাদিত এ ধরনের চুক্তিতে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানোর বিধান ছিল না; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সুবিধা রাখা হয়েছে। চুক্তিতে পেপারলেস ট্রেড, আইপিআর এনফোর্সমেন্ট, কমার্স পার্মানেন্ট মোরাটোরিয়াম সমর্থন, ননট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানো, কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্ট, পরিবেশ ও শ্রম মানদণ্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথাও বলেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজিটাল ট্রেড, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মার্কিন বিনিয়োগে কিছু খাতে ইকুইটি সীমা উদারীকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর কথাও চুক্তিতে রয়েছে। চুক্তিতে একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ রাখা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দেবে বলে সরকারের ভাষ্য। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আশা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ‘প্রতিযোগিতা সক্ষমতা’ বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সমপ্রসারণে ‘সহায়ক হবে’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। বাড়তি এ শুল্ক কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে চালিয়ে আসছিল, যা শেষমেশ গিয়ে ঠেকে ১৯ শতাংশে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমাদের নির্বাচন আয়োজন সার্থক হয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে সদ্য মা হওয়া তরুণীর ‘আত্মহত্যা’