ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের চুয়াল্লিশতম বার্ষিক অধিবেশন। আগামীকাল শুক্রবার এবং শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে রবীন্দ্রপদক দিয়ে গুণী সম্মাননা জানানো হবে অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেনকে। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান অতিথি থাকবেন নাট্যশিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল বুধবার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন দেশের নানা অঞ্চল থেকে সাত শতাধিক শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক। আগামীকাল সকাল ১০টায় বোধন সঙ্গীত ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ এই গানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সূচনা হবে।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি শাখায় প্রতিযোগিতার পর প্রায় চার শতাধিক প্রতিযোগী ঢাকার বাছাই পর্বে অংশগ্রহণ করবেন। এখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী বাছাই করা হবে। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতার কিশোর ও সাধারণ বিভাগের চূড়ান্তপর্ব শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
দুই দিনেরই সান্ধ্য–অধিবেশন সাজানো হয়েছে গুণীজনের সুবচন, গীতিআলেখ্য, আবৃত্তি, নৃত্য ও গান দিয়ে। ৪৪তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় থাকবে সেমিনার। এবারের বিষয় : ‘বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সঙ্গীত’। তাতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজ, অধ্যাপক সন্তোষ ঢালি, ফেরদৌস আরা লিপি ও স্বতন্ত্রা বুলবুল। প্রথম দিনের সান্ধ্যকালীন অধিবেশনের একটি পর্ব থাকছে নজরুল সঙ্গীতের। থাকছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের এ যাবৎকাল পরিচালিত কার্যক্রমের উপস্থাপনা। বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে যথারীতি প্রকাশিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির নানা দিক নিয়ে নানাজনের লেখা প্রবন্ধের সংকলন ‘সঙ্গীত সংস্কৃতি’।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৯ সালে শিল্পী জাহিদুর রহিমের প্রয়াণ দিবসে কাজ শুরু হয়েছিল ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পরিষদ’–এর। দেশব্যাপী বৃহত্তর পরিসরে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার লক্ষ্য নিয়ে পরবর্তীকালে বাঙালির চিরকালের সঙ্গী রবীন্দ্রনাথের নাম যুক্ত করে সংগঠনের নাম করা হয় জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সক্রিয় শাখা রয়েছে ৮২টি। সংগঠনের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক বিকাশের ধারাকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা। নাম পরিবর্তন হলেও অব্যাহত আছে প্রয়াত স্মরণীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী জাহিদুর রহিমের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পুরস্কার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিকের বার্ষিক অধিবেশনগুলো কেবল রাজধানী ঢাকাতেই হতো। শাখাগুলিকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপকতর প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক অধিবেশন হচ্ছে এক বছর ঢাকায়, পরের বছর অন্য জেলায়। সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে এক বছর পর পর, কেবল ঢাকার অধিবেশনে। প্রতি অধিবেশনেই দেশের সেবাব্রতী গুণীদের সম্মাননা জানিয়ে নির্বাচিত গুণীকে রবীন্দ্র–পদক ও সাধ্যমত অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সভাপতি মফিদুল হক, সহসভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম, সহসভাপতি আমিনুল হক বাবুল, লাইসা আহমদ লিসা। উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জহিরুল হক খান, আবুল ফারাহ পলাশ, সদস্য রশীদ আল হেলাল।














