ড. মঈনুল ইসলামের কলাম

ভোলা-বরিশাল সেতু-কাম বিদ্যুৎ লাইন-কাম গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প সকল সমস্যার সমাধান দেবে

| বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ভোলায় ইতোমধ্যে ইলিশাসহ মোট যে নয়টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোতে প্রাপ্ত গ্যাসের সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ভোলা দ্বীপটি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে। যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এই দ্বীপে গ্যাস অনুসন্ধান চালালে নাকি এখানকার বিভিন্ন স্থানে আরো ৮ টিসিএফ এর বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে আগামী কয়েক বছরে, এটাই বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি বছর গ্যাস ব্যবহৃত হয় প্রায় এক টিসিএফ। সে হিসেবে শুধু ভোলার গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা মিটানো যাবে প্রায় দশ বছর। এটা যে দেশের জন্য কতবড় সুখবর সেটা বোঝা যাবে একটি খবর থেকে: এখন দেশের এলএনজি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর আমাদেরকে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে যে উল্লম্ফন ঘটেছে তার ফলে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ এলএনজি আমদানিও করতে পারছি না। এর পরিণামে দেশের অনেকগুলো গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অথচ, ভোলার গ্যাস দেশের গ্যাসগ্রিডে আনা যাচ্ছে না একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনার চরাঞ্চল ভোলার ১.৭৫ টিসিএফ গ্যাস এতদিনেও মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি বিধায়। বছরের পর বছর ধরে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের জ্বালানি বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের পরিচিত গলাবাজির বুলি ছিল পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। এটা একটা ভুয়া যুক্তি, কোন বিশ্বাসযোগ্য ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’র মাধ্যমে এহেন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রিয়পাত্র এলএনজি আমদানিকারক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই ভোলার গ্যাস এদ্দিনেও দেশের গ্যাসগ্রিডে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি! অতএব মূল সমস্যাটি হলো, ভোলায় ইতোমধ্যে প্রাপ্ত গ্যাসকে কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত উপায়ে দেশের মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসা যায়। ভবিষ্যতে যদি ভোলায় আরো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় তাহলে এই ব্যাপারটি দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।

২০২৩ সালের ১১ মে তারিখের দৈনিক যুগান্তরের একটি নিউজ আইটেমের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড ও ভোলা নর্থ গ্যাস ফিল্ড থেকে বরিশালের লাহারহাট পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস বরিশালে নিয়ে আসার জন্য ১৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পপ্রস্তাব ঐ সময় সরকারের পরিকল্পনা কমিশনে নাকি পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে এই গ্যাস পাইপলাইনটি কুয়াকাটাবরিশালগোপালগঞ্জখুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাসগ্রীডের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা। যদি এই প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রকৃত বাস্তবায়নব্যয় পরবর্তীতে ১৫০০২০০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায় তারপরও এটাকে অর্থনৈতিক দিক্‌ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিবেচনা করা সমীচীন হবে। কারণ, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি’র দাম এক এমএমবিটিউ ১৪১৬ ডলার। তাহলে ভোলার ১.৭৫ টিসিএফ গ্যাসের মোট মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় দুই লক্ষ নব্বই হাজার কোটি টাকারও বেশি। মাত্র দেড়দুই হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এই ১.৭৫ টিসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্যাসগ্রিডে নিয়ে আসতে পারি তাহলে এই পাইপলাইন অর্থনীতির জন্য কতখানি উপকার বয়ে আনতে পারবে সেটা কি আমরা অনুধাবন করতে পারছি? বিগত সরকারের সময় ইন্ট্রাকোকে ঠিকাদারি দিয়ে সিলিন্ডারে ভরে ভোলার গ্যাস ঢাকায় নিয়ে আসার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল সেটা অর্থনৈতিকভাবে তেমন উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনছে না। ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষদিকে পত্রপত্রিকায় খুব গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল যে ভোলাবরিশাল সড়ক সেতু স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। ঐ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে আমি কলাম লিখেছিলাম। যদি এই সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তাহলে সেতুর ওপর দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন এবং বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান লাইন স্থাপন সবচেয়ে কস্টইফেক্টিভ সমাধান হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিলে চাঁদপুরশরীয়তপুর সেতু স্থাপনের চাইতে ভোলাবরিশাল সেতু অনেক বেশি অগ্রাধিকার দাবি করে। মনে রাখতে হবে, ভোলায় যদি ৮/১০ টিসিএফ গ্যাস সত্যিই আবিষ্কৃত হয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলাবরিশাল সেতুকামবিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান লাইনকাম গ্যাস পাইপলাইন দেশের অর্থনীতির জন্য কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিগত স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মুনাফাবাজিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই ২০০৯ সাল থেকে দেশের স্থলভাগ এবং বিপুল সমুদ্রাঞ্চলে তেলগ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করা হয়েছে। ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মামলা জেতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এক লক্ষ আঠার হাজার আট শত তের বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণাধিকার (এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোন) অর্জন করা সত্ত্বেও গত চৌদ্দ বছরে এই বিশাল সমুদ্রসীমায় তেলগ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরুই করতে পারেনি। এটা কি আমরা জানি যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার অদূরে সেন্ট মার্টিন উপকুলের কাছে মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমায় দুই দশক আগেই চার টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কার করে ঐ গ্যাস চীনে রপ্তানি করছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে সমুদ্র তলদেশের ভূকাঠামো বিবেচনায় একই কাঠামো বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়ও রয়েছে। তাই, এরূপ গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়ও বিস্তৃত রয়েছে বলে গ্যাস বিশেষজ্ঞগণ বহু বছর আগেই মত ব্যক্ত করেছেন। ২০০৯ সালে ঐ এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোরিয়ার দাইউ কোম্পানি জাহাজভর্তি সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হলে মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদেরকে ফিরে আসতে বাধ্য করেছিল, এলাকাটি মিয়ানমারের দাবি করে। কিন্তু, ২০১২ সালে ইটলসের রায়ে ঐ এলাকা বাংলাদেশ পেয়ে গেছে। কিন্তু, গত চৌদ্দ বছরেও আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঐ এলাকার সাগরে কোন ইজারাদার কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধানের প্রয়াস চালায়নি কেন? মিয়ানমারের ভয়ে? (ভারতের ওএনজিসি দুটো ব্লকে অনুসন্ধান চালালেও তাদের নিষ্ক্রিয়তা রহস্যজনক। যত তাড়াতাড়ি ভারতকে এখান থেকে হটিয়ে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল)! বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমের সমুদ্রসীমান্তের অদূরে ভারত গোদাবরি বেসিন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে বিরাট গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে গ্যাস উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ, বাংলাদেশ এখনো নিজেদের সমুদ্রসীমায় আন্তর্জাতিক তেলগ্যাস কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করার জন্য একটি মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি। কয়েকবছর আগে মার্কিন বহুজাতিক তেল কোম্পানি এক্সনমবিল বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র এলাকার ১৫টি ব্লকে তেল অনুসন্ধানের আগ্রহ দেখিয়েছিল বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রস্তাবটি বিবেচনার দাবি রাখলেও সে সম্পর্কে কোন অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। কোরিয়ার দাইউ কোম্পানিকে মিয়ানমার তাড়িয়ে দিলেও কোন মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে এহেন জবরদস্তি করার দুঃসাহস দেখাবে না মিয়ানমার। আর, এখন যেহেতু ২০১২ সালের ইটলসের রায়ে ঐ এলাকাটা বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাই মিয়ানমারের কোন আইনী অধিকার নেই ঐ এলাকায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তেলগ্যাস অনুসন্ধানকে বাধা দেওয়ার। কিন্তু, ব্যাপারেও বিগত সরকারের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলের সতেরো মাস অতিক্রান্ত হলেও গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে সরকারের রহস্যজনক অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন?

গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের দৈনিক বণিক বার্তায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে পিডিবি ভোলায় ২০০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রকল্পপ্রস্তাব পেশ করেছে। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে পিডিবি বলছে, ভোলা থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তরিত করে দেশের মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসার যে পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে ঐ পরিমাণ এলএনজি পরিবহনে বছরে ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এভাবে দশ বছর সেখানকার গ্যাস এলএনজি হিসেবে পরিবহনে ৯,৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ভোলার গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সে বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসা হলে ঐ ব্যয়ের অনেকখানি সাশ্রয় হবে। পিডিবি’র এই হিসাবের মধ্যে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান লাইন স্থাপনের খরচ কত হবে সেটা দেখানো হয়নি। আমার প্রস্তাব মোতাবেক যদি ভোলাবরিশাল সড়ক সেতুকাম বিদ্যুৎ লাইনকাম গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করা হয় তাহলে শুধু বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান নয় একইসাথে মহাসড়ক এবং গ্যাস পাইপলাইনের প্রভূত উপকার জাতি পেয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ধারণা পাওয়া গেছে যে ঐ সেতু প্রকল্পে প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। বাহ্যিকভাবে যদিও এতবড় ব্যয়বহুল প্রকল্প দেশের জনগণের জন্য বড় বোঝা মনে হতে পারে তবুও বলবো ঐ মাল্টিমোডাল সেতু প্রকল্পই কস্টবেনিফিট এনালাইসিস এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হবে। সেতুর গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে যদি ভোলার গ্যাস দেশের গ্যাসগ্রিডে চলে আসে তাহলে সেটা অর্থনীতির বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুরোপুরি দূরীভূত করে দেবে। একইসাথে, মহাসড়কের মাধ্যমে ভোলার জনগণ যদি দেশের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হয়ে যায় তাহলে ভোলা বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যাবে। অতএব, শুধু বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান স্থাপনের তুলনায় এই মাল্টিমোডাল সেতু প্রকল্প একটি যুগান্তকারী অগ্রগতির রাস্তা খুলে দেবে। সেজন্যই আমি মনে করি, অর্থনীতির জন্য এই সেতু সত্যিকারের ‘গেমচেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।

প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনটি আরেকটি দিক্‌ থেকেও বাংলাদেশকে সুফল দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির টার্মিনালগুলো মহেশখালিকক্সবাজার অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সাথে কোন বৈরিতা দেখা দিলে ভোলায় আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে প্রস্তাবিত ভোলাবরিশাল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্যাসগ্রিডে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে, আমার মতে প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবিষ্যৎব্যবহার নিশ্চিত হবে যদি বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে গ্যাস পেয়ে যায়। তখন, এলএনজি’র আকারে গভীর সমুদ্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পাইপলাইন সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায় হয়ে উঠবে। এমনকি, এই সম্ভাবনাটি মাথায় রেখে পাইপলাইনের ব্যাস বাড়ানো যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হতে পারে। উপরে উল্লিখিত আলোচনাবিশ্লেষণ থেকে আমি অনুসিন্ধান্ত টানতে চাই, প্রস্তাবিত ভোলাবরিশাল সেতুকামবিদ্যুৎ ট্রান্সমিশান লাইনকাম গ্যাস পাইপলাইনটি অবিলম্বে একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। কোন দেশ বা উন্নয়নসহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখালে ভাল, নয়তো সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও কয়েক বছরের মধ্যেই প্রকল্পের ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি সুফল অর্জন করবে আমাদের অর্থনীতি। বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট ও গ্যাসের চলমান ঘাটতি সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য এটাকে দেশের জনগণের জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত মনে করি। একইসাথে ভোলার সাথে দেশের মূল ভূখন্ডের সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বকেও খাটো করে দেখা সমীচীন মনে করি না।

লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ববর্তী নিবন্ধইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধগুহায় বিভিন্ন প্রাণীর জীবাশ্ম, ১২ প্রজাতির পাখি এবং চার প্রজাতির ব্যাঙ