প্রফেসর ইউনূস ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসী রাজ্যের মারফ্রিজবোরো শহরে অবস্থিত মিডল টেনেসী স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছিলেন। এর আগে তিনি টেনেসী রাজ্যের ন্যাশভিল নগরের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ভ্যাণ্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, যেখান থেকে ১৯৮১ সালে আমিও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি। ১৯৫৮ সাল থেকেই প্রফেসর ইউনূসের সাথে আমার ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্ক, তাঁর ছোটভাই আইউব আমার ঘনিষ্টতম বন্ধু ও সহপাঠী। তাঁর কারণেই আমাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার জীবন বেছে নিতে হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি অর্থনীতিতে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার পর তিনি তাঁর প্রয়াত ছোট ভাই আজমকে আমার বাসায় পাঠিয়ে আমাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যেজন্য রেজাল্ট বের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এড হক এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আমি ১৯৭৩ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছিলাম। অতএব, ১৯৫৮ সাল থেকেই আমি প্রফেসর ইউনূসের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই ইউনূস বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের অঙ্গ–সংগঠন ইউএসপিপি এর সাথে জড়িত ছিলেন, ইউএসপিপি’র সাময়িকী ‘দু’পাতা’ সম্পাদনা করতেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবেও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রফেসর ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রকাশিত সংবাদ–সাময়িকী বাংলাদেশ নিউজলেটার এর কার্যনির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, ঐ সাময়িকীর সম্পাদক ছিলেন বিশ্বখ্যাত বাঙালি স্থপতি ড. ফজলুর রহমান খান। সুদূর ন্যাশভিল থেকে গাড়ি চালিয়ে ড. ইউনূস ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে প্রতিবার ঐ সাময়িকীর সম্পাদনা সম্পন্ন করে আসতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের সময় প্রফেসর ইউনূস ফ্রান্সের প্যারিসে অলিম্পিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঐ অলিম্পিক তাঁর ‘সোশ্যাল বিজনেস’ এর ধারণা অনুসারেই অর্গানাইজ করা হয়েছিল। তাঁর সাথে ৬/৭ আগস্টে টেলিফোনে আন্দোলনের ছাত্র–নেতৃবৃন্দ যোগাযোগ করে তাঁর সম্মতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ৮ আগস্ট দুপুরে বাংলাদেশে ফিরে এসে রাত নয়টায় প্রফেসর ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে যায় যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সরকার পতনের আন্দোলন–সংগ্রাম পরিচালিত হলেও এই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দখল করে ফেলেছিল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা। এমনকি তাদের অনেকেই ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের পরিচয় ধারণ করলেও ওদের প্রায় সকলেই ছিল সুপ্ত/গুপ্ত শিবির–ক্যাডার। অতএব, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে জামায়াত–শিবিরের রাজনীতির প্রতিফলন হতে মোটেও দেরি হলো না। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত–শিবির যে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার করে এসে ২০২৪ সালেও মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি সেটা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেলো অতি শীঘ্রই। (অতি সম্প্রতি সংসদে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেননি)। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে এ ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করতে শুরু করে দিল সারা দেশে। মুক্তিযুদ্ধ নাকি ‘দু’ভাইয়ের ঝগড়া’! আসল স্বাধীনতা নাকি অর্জিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে! অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের গত দেড় বছরে দেশের কোথাও মুক্তিযুদ্ধের একটি ভাস্কর্য কিংবা স্মৃতিসৌধও অক্ষত রইলো না। এমনকি যেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল সেই মুজিবনগরের সব ভাস্কর্য ভাঙচুরের শিকার হলো। ৩২ নম্বর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বাড়িটি দফায় দফায় সংগঠিত মবের নামে জামায়াত–শিবিরের ক্যাডারদের তান্ডবের শিকার হয়ে ধূলায় মিশে গেলো। প্রতিটি আক্রমণের সময় ওখানে সামরিক বাহিনী, র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সশস্ত্র উপস্থিতি সত্ত্বেও ঐ ক্যাডারদেরকে নিবৃত্ত করার কোন প্রয়াস গৃহীত হলো না। কয়েকটি ভাঙচুরের সময় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কয়েকটি বুলডোজার সরবরাহ প্রমাণ করলো যে সরকারের সম্মতিতেই ঐ ভাঙচুর–অপারেশন চালানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছিলেন জামায়াত–সমর্থক ব্যক্তিরা, যেজন্য ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি’র ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই এসব উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করে বিএনপি–পন্থী শিক্ষকদেরকে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিযুক্ত সচিবদের মধ্যে যেহেতু জামায়াতের সমর্থকরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল তাই গত দেড় মাসে প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জামায়াতের সমর্থক ছিলেন বলে মনে করা হয়, যাঁরা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ফন্দি–ফিকিরে মেতে উঠেছিলেন বলে মিডিয়ায় প্রবল অভিযোগ উঠেছে ইউনূস সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ অনেকগুলো সংস্কারের সুপারিশ জামায়াতে ইসলামীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, খোদ গণভোট অসাংবিধানিক পদক্ষেপ বলে চিহ্নিত হয়েছে বিএনপি’র ভাষ্যে!
আমার প্রশ্ন হলো, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে এভাবে সক্রিয়ভাবে লাই দেওয়ার কারণ কী? প্রফেসর ইউনূস তো ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মী থাকার সময়েও তাঁকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অনুসারী মনে হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল নেতারা যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সুপ্ত–গুপ্ত কিংবা স্বঘোষিত ক্যাডার সেটা তো তাদের বয়ানেই জানাজানি হয়ে গেছে গণ–অভ্যুত্থানের পরপরই। এরপরও কেন প্রফেসর ইউনূস তাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন না অথবা তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তাণ্ডবকে দমন করলেন না? এসব ছাত্র ‘রিসেট বাটন’ টিপে দিয়েছে বলে তিনি কয়েকবারই দাবি করেছেন, এই রিসেট বাটনের তাৎপর্য কী? মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপপ্রয়াসই কি রিসেট বাটন টেপার আসল মর্মার্থ? তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও স্মারকগুলো ভাঙচুর কিংবা ধ্বংস করার বিরুদ্ধে একটি বাক্যও উচ্চারণ করলেন না কেন? তাঁর সরকারের একটি প্রেসনোটও গত দেড় বছরে জামায়াত–শিবিরের এসব মুক্তিযুদ্ধ–বিরোধী তাণ্ডবের সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদ করলো না কেন? আমরা সবাই জানি, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা তাঁর সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে চরম নির্যাতন–নিপীড়ন চালিয়ে তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। এমন কোন হেনস্তাকারী ও অপমানজনক পদক্ষেপ বাকি ছিল না, যা শেখ হাসিনা প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রহণ করেননি। এহেন নিপীড়ন–নিবর্তনের বিরুদ্ধে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিশ্বের শতাধিক নোবেল পুরস্কার–বিজয়ী ব্যক্তিত্ব, কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি শেখ হাসিনা। প্রফেসর ইউনূসের একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা অন্যায্য করারোপ করা হয়েছে। একের পর এক ভুয়া মামলা দায়ের করে তাঁকে দিনের পর দিন কোর্টে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আদালতে গেলে তাঁকে হেঁটে ছয়/সাত তলায় উঠতে বাধ্য করার জন্য লিফট বন্ধ রাখার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে অবস্থিত প্রফেসর ইউনূসের অফিস ভবনে উত্তেজিত মব পাঠিয়ে তাঁকে অপমান/হেনস্তা করা হয়েছে। গ্রামীণ ফোনের লভ্যাংশ থেকে প্রফেসর ইউনূসের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমকে বঞ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এগুলো সবই সত্য, অকাট্য সত্য। ক্ষমতায় এসে এগুলোর প্রতিকার চাইলে প্রফেসর ইউনূসকে দোষ দেওয়া যাবে না। কিন্তু, ক্ষমতায় এসে প্রফেসর ইউনূস যদি এগুলোর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে বা মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত জামায়াত–শিবিরের ন্যক্কারজনক ধ্বংসলীলাগুলোর পেছনে তাঁর সমর্থনকে বা এগুলোর ব্যাপারে তাঁর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে যৌক্তিক দাবি করতে চান তাহলে সেটাকে কি তিনি গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারবেন? তাঁকে আমরা যারা প্রায় আটষট্টি বছর ধরে চিনি, এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্পর্কে অবগত রয়েছি তারা তাঁর এহেন জামায়াত–শিবির–প্রীতির জন্য অপমানিত বোধ করলে কি অপরাধ হবে? জামায়াত–শিবির এদেশের রাজনীতির একটি বিপজ্জনক অপশক্তি। স্বৈরশাসক হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে বাধ্য করা হলেও এই অপশক্তি পূর্ণ–উদ্যমে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তারা এদেশে কট্টর তালেবানি শাসন কায়েম করতে বদ্ধপরিকর। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট তারিখে দেশের সেনাবাহিনী যখন আন্দোলনরত জনগণের বিরুদ্ধে গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তখন সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা জামায়াত–শিবিরের লক্ষ লক্ষ ক্যাডারকে তারা ঢাকায় নিয়ে এসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজপথে নামিয়ে দিয়ে দুপুরের মধ্যেই গণ–অভ্যুত্থান সংগঠিত করে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সমর্থ হয়েছিল। এই অভ্যুত্থানের আগে–পরে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে কয়েক শত পুলিশকে হত্যা করেছে, কয়েক’শ থানা লুট করে অস্ত্রশস্ত্র দখল করে নিয়েছে। এমনকি, ঐ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে তারা শত শত বেসামরিক ব্যক্তিকে রাজপথে হত্যা ও জখম করেছে এবং পুলিশ বাহিনীকে ভীত–সন্ত্রস্ত করে বহু পুলিশকে থানাগুলো থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত অত্যাধুনিক চাইনিজ রাইফেল পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথমদিকের স্বরাষ্ট্র–উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসাইন অভিযোগ তোলায় তাঁকে ঐ পদ থেকে তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার যদি পুলিশের দাবি মোতাবেক পুলিশ হত্যার বিচার–প্রক্রিয়া শুরু করে তাহলে এসব অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হবে। অতএব, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান প্রকৃত প্রস্তাবে পুরোপুরি সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণ–অভ্যুত্থান ছিল না, এর পূর্ণ–সুযোগ গ্রহণ করেছিল জামায়াত–শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারবাহিনী। এদ্দিনে বিএনপি সরকারের কাছে এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ার কথা। এমনকি, ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই প্রফেসর ইউনূসও বিষয়টি বুঝে ফেলার কথা! তারপরও কেন তিনি তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের লেবাস গায়ে জড়িয়ে জামায়াত–শিবিরের দেড় বছরের স্বাধীনতাবিরোধী অপশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলেন না সেটাই আমাদের কাছে রহস্যময় হয়ে থাকবে।
লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়














