ড. মইনুল ইসলামের কলাম

| বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

১৭ ফেবু্রয়ারি ২০২৬ তারিখে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি শপথ নিয়ে সরকারে আসীন হওয়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন ঘোষণা করেছেন,‘মব কালচার শেষ’। বিএনপি’র কাছে আমার প্রথম চাওয়া জামায়াতশিবির ও এনসিপি’র বর্বর ‘মব কালচার’ থেকে জাতিকে সত্যিসত্যিই মুক্তি প্রদান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়ে প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ব্যাপারটি ছিল জামায়াতশিবির ও এনসিপি’র সুচতুর পরিকল্পনা, প্রত্যক্ষ উস্‌কানি ও সক্রিয় অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা এবং জামায়াতশিবিরএনসিপি’র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল দলগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত সুপরিকল্পিত ‘মব ভায়োলেন্স’ সংঘটিত করার অসভ্যঅপরাজনীতি। যদিও এই ‘পরিকল্পিত মবোক্রেসির’ প্রধান টার্গেট ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যগুলো ধ্বংস করা, কিন্তু পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুরকে তারা তাদের ঘোষিত লক্ষ্য হিসেবে প্রায়ই জাহির করত। দেশের একটি স্থানেও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তাদের ধ্বংসলীলার তান্ডব থেকে রেহাই পায়নি। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটি শুধু ভেঙেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বুলডজারের সাহায্যে কয়েক দফায় উন্মত্ত জনতা পুরো বাড়িটাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি সরকারপরিচালিত মবোক্রেসির পরিকল্পিত ‘ডেমোলিশন টার্গেট’ না হলে এত বিশাল বিশাল বুলডজার তারা যোগাড় করলো কীভাবে? (ওগুলো তো আসিফ ভুঁইয়ার নির্দেশে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে আনা হয়েছিল)। পুরো বাড়িটি যতবারই ভাঙনের তান্ডবের শিকার হয়েছে প্রতিবারই ওখানে হাজির ছিল সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং পুলিশের একাধিক ইউনিট। এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরবে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ভাঙনউৎসব পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া একটি বারও জনতার বিরুদ্ধে কোন অভিযান চালায়নি, যাতে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে এই ‘মব ভায়োলেন্স’ পুরোপুরি সরকারের ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়েছে প্রতিবারই।

শুধু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি বা ভাস্কর্য নয়, সারা দেশে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য, এমনকি মুজিবনগরের একাধিক ভাস্কর্য ও ফ্রেস্কো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওগুলোকে টার্গেট করার জন্য কি জামায়াতশিবিরের ক্যাডাররা দায়ী নয়? সবশেষে মবোক্রেসি’র শিকার হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলী স্টার, ছায়ানট এবং উদীচী। এগুলো কি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠান? এগুলো তো দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতীক। দি ডেইলী স্টারে ভাঙচুর চালানোর সময় উন্মত্ত জনতাকে থামানোর জন্য প্রত্যক্ষভাবে প্রয়াস চালাতে গিয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক ‘দি নিউ এইজ’ পত্রিকার সম্পাদক জনাব নুরুল কবির জনতার হাতে প্রহৃত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। তারা নাকি জনাব নুরুল কবিরকে চিনতেই পারেনি। ওরা কারা? ভাড়াটে অশিক্ষিত গুন্ডা না হলে তো জনাব নুরুল কবিরকে তাদের চেনাই ছিল স্বাভাবিক! এরকম সুপরিকল্পিত মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে জামায়াতশিবির ও তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সুপ্রিম কোর্টে হামলা চালিয়ে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতিসহ বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল ২০২৪ সালের আগস্ট মাসেই, তাঁরা বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছিলেন হামলার পরপর। (একইসময় প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জন্য মব ভায়োলেন্স চালানো হলেও বিএনপি অপসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ঐ মব ভায়োলেন্স সফল হয়নি)। এছাড়া সারা দেশে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর বাসভবন, শিল্পকলকারখানা, ব্যবসাপাতিদোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মবোক্রেসির তান্ডব চালানোর মাধ্যমে। প্রফেসর ইউনূস একবারও নিন্দা জানাননি মবোক্রেসির এহেন পরিকল্পিত তান্ডবের বিরুদ্ধে, যেন গণঅভ্যুত্থানের পর এরকম পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার! অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘সবচেয়ে অযোগ্য’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি দেড় বছর ধরে তাঁর ব্যর্থতার এহেন অসংখ্য জ্বলন্ত নজির সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও!

সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা বেশ কয়েকবার খোদ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। তাদের কাছে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তানী স্বাধীনতার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নাকি ছিল ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে তারা অভিহিত করেছে ‘ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া’। বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকে অস্বীকার করে এই তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কি নিজেদেরকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরছে না? তারা যে ছদ্মবেশে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ‘গুপ্তসুপ্ত একটিভ ক্যাডার’ ছিল সেটা ক্রমেই তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। সেজন্য বলতেই হবে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তাদের নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি যে জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগদান করেছে সেটাই প্রত্যাশিত ছিল। এই জোটবদ্ধ হওয়ার কারণেই এনসিপি নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। অবশ্য, যাঁরা দেশের রাজনীতির হালহকিকত ঠিকমত বোঝেন এবং বিশ্লেষণ করেন তাঁরা নির্বাচনে জামায়াতএনসিপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭টি সংসদীয় আসনে জয়লাভকে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে না দেওয়ারই প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বিবেচনা করবেন। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ আবারো দেশের প্রধান দুটো দলের অন্যতম স্থানে ফিরে আসবে, ব্যাপারে আমার কোনই সন্দেহ নেই। তবুও আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে এই নির্বাচনে জামায়াতএনসিপি জোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৩২ শতাংশ কব্‌জা করে নেয়ার ব্যাপারটি আমার কাছে ‘অশনি সংকেত’ মনে হয়েছে। আমার মাতৃভূমিকে জামায়াতশিবির আরেকটি আফগানিস্তান বানিয়ে ফেলার পাঁয়তারা করছে বুঝতে পেরে আমি আমার প্রাথমিক অবস্থান বদলে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম এবং বিএনপি’র প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাতকদালালের ভূমিকা নিয়ে তাদের সক্রিয় পার্টনার হিসেবে আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে গণহত্যা, ভাঙচুর ও লুটতরাজ, আগুনসন্ত্রাস, জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তর এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞে অংশ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার করে এসেও এখনো জামায়াত এই স্বাধীনতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী ঘৃণিত কর্মকান্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে তারা তাদের এহেন ন্যক্কারজনক অবস্থানকে সঠিক ছিল বলে এখনো গলাবাজি করে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নীতি নৈতিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকারই থাকতে পারে না। অথচ, আওয়ামী লীগের নিজেদের ভুলে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হওয়ার পরিণতিতে জামায়াত দেশের দ্বিতীয় প্রধান রাজনৈতিক দলের তক্‌মাটি দখল করে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পেলেও জামায়াতশিবির তাদের বিশাল ক্যাডার বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে দেশ থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেই যাবে, এটাই আমার আশংকা।

বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত ও এনসিপি যেহেতু নির্বাচিত সংসদে বিরোধী দল হিসেবে সোচ্চার থাকবে তাই আগামী দিনগুলোতে তারা দেশের রাজনীতিতে মাঠ গরম করার সুযোগ পাবে। কিন্তু যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা, তাই বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হতে হবে সময়ক্ষেপণ না করে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সবার আগে সাফল্য অর্জন করা। বিএনপিজামায়াত জোটের ২০০১২০০৬ মেয়াদের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের রেকর্ড মোটেও সুখকর ছিল না। ২০০৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের জনসভায় বর্বর গ্রেনেড হামলা, ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোতে নিয়ে যাওয়ার সময় দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার, উত্তরবঙ্গের বাংলা ভাইয়ের চরমডানপন্থী উগ্রবাদী সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় ২০০৫ সালের আগস্টে একই সময়ে পরিকল্পিত বোমা ফাটানোএগুলোর কোনটাকেই তাদের এক্ষেত্রে সফলতার আলামত বলা যাবে না। হংকং থেকে প্রকাশিত ‘ফার ইস্টার্ন ইকনমিক রিভিউ’ পত্রিকার ভাষ্যমতে ঐ সময় বাংলাদেশ একটা কুখ্যাত ‘কোকুন অব টেররে’ (সন্ত্রাসের আস্তানা) পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে ঐ শাসনামলে বিএনপি’র জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে ঐ সন্ত্রাসী তৎপরতাগুলো চালানো হয়েছিল। এবার যেহেতু জামায়াতকে বিএনপি সরকারে নেয়নি তাই অদূর ভবিষ্যতে এধরনের অপরাজনীতির ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে সেটা সবার আগ্রহের ফোকাসে থাকবে। বিশেষত, ধরনের সন্ত্রাসের ব্যাপারে যেহেতু প্রতিবেশী ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া থাকাই স্বাভাবিক তাই জনাব তারেক রহমান যদি ভারতকে অহেতুক টার্গেট করতে না চান কিংবা চটাতে না চান তাহলে তাঁর সরকার কর্তৃক এহেন ভারতবিরোধী, প্রগতিবিরোধী ও হিন্দুবিরোধী কর্মকান্ডকে কঠোরভাবে দমন করাই স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত থাকবে। নির্বাচনপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ থেকে আন্দাজ করা হচ্ছে যে এবার জনাব তারেক রহমান ভারতের সাথে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস জারি রাখবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে বিশ্বাস করা যায় যে জনাব তারেক রহমানের এবারের সরকার ২০০১২০০৬ মেয়াদের সরকারের মত ভারতবিরোধী কিংবা পাকিস্তানপন্থী হবে না। অদূর ভবিষ্যতে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ভারত ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে মূল নির্ধারকে পরিণত হবে। এমনকি, বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানকে বৈরী মনে করলে আবারো পার্বত্য চট্টগ্রামে ইনসার্জেন্সি শুরু করতে দ্বিধা করবে না ভারত। অতএব, এসব গুরুতর বিষয়গুলোর বিবেচনায় নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখাই জনাব তারেক রহমানের সরকারের জন্য যুক্তিযুক্ত হবে।

আগামী দিনগুলোতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতএনসিপি জোটের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস প্রবলভাবে বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিশেষত, বিএনপি সরকার যদি কিছুদিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয় তাহলে জামায়াতএনসিপি জোট সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য রাজপথে নামতে মোটেও দেরি করবে না। কিন্তু, এতদ্‌সত্ত্বেও বিএনপি অচিরেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশটি তুলে নেয়া কৌশলগত দিক্‌ থেকে বেশি ফলপ্রসূ হবে মনে করি। কারণ, আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়ে তাদের বিপুল সমর্থকদেরকে নিয়ে রাজনীতির মাঠে অবতীর্ণ হলে তারাই জামায়াতএনসিপি’র বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। নয়তো, বিএনপি এককভাবে জামায়াতএনসিপি’কে রাজপথের রাজনীতিতে মোকাবেলা করতে চাইলে জামায়াতএনসিপি’র ঐ সম্মিলিত ক্যাডারশক্তিকে পরাজিত করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যাবে। (পাকিস্তানও জামায়াতএনসিপি’র পেছনে শক্তি যোগাবে)। এর বিপরীতে, আওয়ামী লীগকে বৈধভাবে কার্যক্রম চালাতে দিলে ভারতও পরোক্ষভাবে বিএনপি’কে সহায়তা করবে। ভারতের জন্য শুধু আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে নামা অদূর ভবিষ্যতে প্রায় অসম্ভব হওয়াই স্বাভাবিক। জামায়াত যেহেতু বাংলাদেশকে আরেকটি আফগানিস্তান বানাবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিকে মদত দিয়ে শক্তিশালী করা ছাড়া ভারতের গত্যন্তর নেই। এই নতুন পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ভারতের আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল কোন্‌দিকে যায় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ববর্তী নিবন্ধপিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধরমজান: আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের মাস