ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের ছিলেন একজন সার্থক মহাপুরুষ

প্যারেড মাঠে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা

| শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

. জ্ঞানশ্রী মহাথের একজন মানবিক কল্যাণকামী মানুষ হিসেবে যে গুণাবলী আমাদের মাঝে রেখে গেছেন তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নয় একজন মহাপুরুষ। বিগত একশত বছর তিনি ধর্মকাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দেশে যতগুলো বৌদ্ধ বিহার আছে প্রত্যেকটিতে অনুদান দিতে চেষ্টা করেছে। গতকাল শুক্রবার প্যারেড ময়দানে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ত্রয়োদশ সংঘরাজ, একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র দুইদিন ব্যাপী জাতীয় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলের। অন্তর্বর্তী সরকার সকল সমপ্রদায়ের মধ্যে ঐক্য সমপ্রীতি সুদৃঢ় করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

দুইদিন ধরে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ শিল্পে নির্মিত শবদেহ মঞ্চে হাজারো ভক্তের দর্শন, শ্রদ্ধা নিবেদন, অতিথিদের স্মৃতিচারণ, আতশবাজি উৎসব, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আলং নৃত্যের মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে সম্মান জানানানো হয় এই গুণী বৌদ্ধ ভিক্ষুকে। প্যারেড মাঠে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির সার্বিক সহযোগিতা ও জাতীয় অনিত্য সভা এবং স্মৃতিচারণ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মগুরু উপসংঘরাজ শাসনপ্রিয় মহাথের। আশীর্বাদক ছিলেন চতুর্দশ সংঘরাজ ধর্মপ্রিয় মহাথের। উপসংঘরাজ প্রিয়দর্শী মহাথের, উপসংঘরাজ শীলরক্ষিত মহাথের, উপসংঘরাজ ধর্মদর্শী মহাথের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম ১১ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা ইস্রাফিল খসরু চৌধুরী। সংবর্ধিত অতিথি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

স্মৃতিচারণ করেনবৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ২৯তম সংঘনায়ক অধ্যাপক বনশ্রী মহাথের, কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথের। স্বাগত বক্তব্য দেন, বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ভারতের সহকারী হাই কমিশনার রাজীব রঞ্জন, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শামসুদ্দীন শিশির, জমিয়তুল ফালাহ্‌ মসজিদের পেশ ইমাম মোহাম্মদ আহমদুল হক, স্বামী তাপসানন্দ গিরি মহারাজ ও খ্রিস্টান ধর্মের লরেন্স সুব্রত হাওলাদার। সম্মানিত অতিথি ছিলেনবিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা, রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া, সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এফসিএ, প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, ডা. প্রীতি বড়ুয়া, ডা. মৃৃদুল বড়ুয়া চৌধুরী, স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী, বিদ্রোহী বড়ুয়া, লায়ন সোহেল বড়ুয়া। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেনপ্রকৌশলী মৃগাঙ্ক প্রসাদ বড়ুয়া। আলোচক ছিলেন শাসনানন্দ মহাথের, প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, বিসিসিইএল’র চেয়ারম্যান শাসনরক্ষিত মহাথের, অধ্যাপক ড. জ্ঞানরত্ন মহাথের, . ধর্মকীর্তি মহাথের, . সংঘপ্রিয় মহাথের, অতুলানন্দ মহাথের, এম. বোধিমিত্র মহাথের, তিলোকাবংশ মহাথের, অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথের, অধ্যাপক উপানন্দ মহাথের, এইচ শীলজ্যোতি মহাথর, রতনানন্দ মহাথের, দীপানন্দ মহাথের, অরুণ কুমার বড়ুয়া দেবু, ট্রাস্টি সুশীল বড়ুয়া, ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া, ট্রাস্টি অধ্যাপক ববি বড়ুয়া, চিন্ময় বড়ুয়া রিন্টু, ব্রম্মান্ড প্রতাপ বড়ুয়া, সুকুমার বড়ুয়া, দীপঙ্কর চৌধুরী, অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী রোটারিয়ান সপু বড়ুয়া, তুষার কান্তি বড়ুয়া, রিটন কুমার বড়ুয়া, লায়ন রনি কুমার বড়ুয়া। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেনযীশু বিকাশ চৌধুরী। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শেষ করে প্রয়াতের মরদেহ পুনরায় রাউজানের বিনাজুরি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসালাহউদ্দিন আহমদের বছরে আয় ৬ কোটি টাকার বেশি
পরবর্তী নিবন্ধনতুন শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা জারি