ড. ইউনূসের আশপাশের লোকজন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

মহানগর জামায়াতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আশপাশে ষড়যন্ত্রকারী রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব একটি রাজনৈতিক দলের পকেটে ঢুকে গেছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তার আশপাশের লোকজন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অনেকে একটি দলের পকেটস্থ হয়ে এই দেশকে আবার বিপদগামী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।

তিনি গতকাল শুক্রবার বাদে আসর জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ ৫দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। সমাবেশ শেষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণমিছিল নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে আবারও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করবেন, গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করবেন, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনবেন, রাজনৈতিক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করবেন এবং পৃথিবীর সেরা নির্বাচন আয়োজন করবেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, একটি মহলের চাপে অথবা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার পালনের পরিবর্তে এ দেশের মানুষ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, সেদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের ভেতরে থেকে অনেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এটি মেনে নেবে না জনগণ। ফ্যাসিবাদের মতোই জনগণ তাদেরকে প্রতিরোধ করবে। সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল তা হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। প্রতিবন্ধকতা তৈরিকারীদের চিহ্নিত করা হবে। নির্বাচনের জন্য এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়নি।

পিআর নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষে গণভোটের দাবি জানিয়ে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি, গণভোট দিন। জনগণ পিআরএর পক্ষে আছে কি বিপক্ষে আছে। জনগণ যদি পিআর মানে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকেও মানতে হবে। আর জনগণ যদি বিপক্ষে যায় আমরা তা মেনে নেব। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতি অকার্যকর করে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচার করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগ স্টাইলে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী স্টাইলের কোনো নির্বাচন জনগণ আর হতে দেবে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তিনটি দল দেশে শাসন করেছে। একটি ফ্যাসিবাদী দল। আরেক দল অতিরিক্ত দালালি করার কারণে নিজেরাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরেকটি দল বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজি, বালু খাওয়াপাথর খাওয়া শেষ করেছে; এবার বাংলাদেশের মানচিত্র খাওয়ার ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত হয়েছে।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, গোটা জাতি উৎসব মুখর নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জামায়াত নাকি নির্বাচন পিছাতে চায়। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই জামায়াত সবার আগেই তিনশত আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কাজ শুরু করে দিয়েছে কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে। সত্তুরের নির্বাচনের ম্যান্ডেট মেনে না নেয়ার কারণে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের স্পষ্ট অবমাননা। দু’হাজারের শাহাদাত, অসংখ্য পঙ্গুত্ব ও নির্যাতনের পর ৩৬ জুলাই বিপ্লব এসেছে এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শেষ হয়েছে। পুনরায় ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার যেকোনো চেষ্টা রোধ করতে হবে। জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিবাদী দোসরদের কার্যক্রম অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হলে সংস্কারের কোনো ভিত্তি নেই। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস এবং এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোসাইন, ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, মাহমুদুল আলম, জামায়াত নেতা ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শফিউল আলম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরো ৩১ ও চিকুনগুনিয়ায় ৮ জন আক্রান্ত
পরবর্তী নিবন্ধজামায়াতের পিআর আন্দোলনে এনসিপি নাই : নাহিদ