কাপ্তাই উপজেলার তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় বহু চাষি ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বাগানে ফল ধরতে শুরু করেছে, যা দেখে চাষিদের মুখে খুশির হাসি ফুটেছে। স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই ড্রাগন চাষে হাত দিয়েছেন, এবং তাদের বাগানের ফলন ইতোমধ্যেই উৎসাহ জাগাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় জমির পর জমি জুড়ে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে ড্রাগন ফল দেখা যাচ্ছে। বাগান মালিকরা ফল রক্ষায় চারপাশে শক্ত ঘেরাও দিয়েছেন। কেউ কেউ বাগান থেকে ড্রাগন ফল তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।
ড্রাগন ফল চাষি সুশীল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তিনটি বাগানে তাদের পরিবার ড্রাগন ফল চাষ করেছেন। বাগানে ফলনও ভালো হয়েছে। বাগান সুরক্ষায় ঘেরাও দেওয়ার পাশাপাশি রাতে আলোও ব্যবহার করেছেন। শতাধিক বাতির আলোয় রাতের বাগান দেখতে অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, অনেকের কাছে শুনেছি তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় সুন্দর ও আকর্ষণীয় ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি হয়েছে। সকলের কাছ থেকে শুনে বাগান দেখার আগ্রহ হয়। এরপর তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া ঘুরে বাগান পরিদর্শন করেছি। ড্রাগন ফলের চাষ দেখে ভালো লেগেছে। তিনি আরো বলেন, তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বাগান তৈরি করেছেন। আরও বাগান সৃষ্টির জন্য যদি কোনো চাষি সহযোগিতা চায়, উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী তা দেওয়া হবে।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে ড্রাগনের পাশাপাশি ধান, আখ, লাউ ইত্যাদি ফসলও ভালো হয়। যারা পরিশ্রম করে চাষ করছেন তাদের তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ চাইলে যেকোনো চাষাবাদে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পাবেন বলেও জানান তিনি।
পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জিয়াউর রহমান বলেন, ড্রাগন মূলত বিদেশি ফল। কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সর্বপ্রথম দেশে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করে এবং সাধারণ জনগণকে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ করে। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক চাষি প্রায় সারা বছর ড্রাগন ফল চাষ করছেন। বাজারে ড্রাগন বিক্রি করে অনেক চাষি ভালো আয় করছেন। ড্রাগন চাষে আগ্রহী হলে গবেষণা কেন্দ্র সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।










