ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পরিযায়ী পাখির মেলা মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | শনিবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

শীতের তীব্রতায় এবারও পরিযায়ী পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক। সাম্প্রতিক সময়ে ঢল নামা এসব পরিযায়ী পাখি পার্কের তৃণভোজী বন্যপ্রাণীর বেষ্টনীসহ আশপাশের এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুরেফিরছে। আর এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকদর্শনার্থীরা।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজার হাজার মাইল উড়ে এসে এসব পরিযায়ী পাখি তথা অতিথি পাখি পার্কের লেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে দল বেঁধে। লেকের স্বচ্ছ পানিতে দলবদ্ধ এসব অতিথি পাখির ওড়াওড়িতে মুগ্ধ পার্কে আসা দর্শনার্থীরাও। প্রতিবছরের মতো এবারও পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিরূপ পরিবেশের কারণে দিন দিন পরিযায়ী পাখির আগমন কমে আসছে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা।

জানা গেছে, প্রতি বছরের নভেম্বরডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে হিমালয়ের উত্তরে শীত নামতে শুরু করলে উত্তরের শীত প্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে অতিথি পাখিগুলো উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে অগণন অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বাংলাদেশের যেসব এলাকায় পরিযায়ী পাখি আসে তার মধ্যে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক অন্যতম।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের নভেম্বরডিসেম্বর মাসে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। তবে চলতি শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতার কারণে এবার পরিযায়ী পাখির আগমন আগের চেয়ে কমে এসেছে। এরপরও যা এসেছে তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সাফারি পার্কের আকাশ। এসব পরিযায়ী পাখি সাধারণত বিশ্রাম নেয় লেকের পানিতে। এসব পরিযায়ী পাখি মূলত হাঁস প্রজাতির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চল থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখির মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনি, ছোট জিরিয়া, পান্তামুখী, পাতারি, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, পাতারি হাঁস, জলকুক্কুট, খয়রা ও কামপাখি। এছাড়া মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটি, নর্দনিপিনটেল ও কান্ডেচড়া প্রভৃতি পাখিও মাঝে মধ্যে দেখা মেলে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল আলম বলেন, প্রতিবছরই পার্কের লেকে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। এবারও পরিযায়ী পাখি এসেছে। তবে আগের তুলনায় কম। অতিরিক্ত শীতের কারণে এবার পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে। যারা এসেছে তারা পার্কের স্বচ্ছ লেকের পানিতে ঘুরেফিরছে। তিনি আরো বলেন, পার্কে আসা দর্শনার্থীরা যাতে পরিযায়ী পাখিদের কোনো রকমের ঢিল ছুঁড়তে না পারে সেজন্য কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সকলেই সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাহপরীর দ্বীপের জেটি ২১ বছরেও সংস্কার হয়নি, বাড়ছে ঝুঁকি
পরবর্তী নিবন্ধউত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, দুই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু