রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে থাকা বালু উত্তোলনের ড্রেজারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি পর্যটকবাহী বোট ডুবে গেছে। এতে বোটে থাকা নারী–শিশুসহ ১১৭ জন যাত্রী ডুবে যায়। তবে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করায় কোনোভাবে প্রাণে বাঁচলেন তারা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোলাম বেপারী হাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. সেলিম মাঝি জানান, কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট থেকে ছেড়ে আসা কাপ্তাইমুখী বোটটি কর্ণফুলী নদীপথে রাঙ্গুনিয়ার গোলাপবেপারী হাট এলাকায় এলে সেখানে আগে থেকে ডুবে থাকা একটি ড্রেজারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে যাত্রীবাহী বোটটি ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। মো. মহিউদ্দিন নামে অপর একজন জানান, ডুবে থাকা ড্রেজারটিতে কোনো চিহ্ন দেয়া ছিল না। যার কারণে গত তিনদিনে তিনটি বোটের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সর্বশেষ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বোটটি ধাক্কা লাগার আগে স্থানীয়রা তীর থেকে তাদের চিৎকার করে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা শুনতে না পাওয়ায় এই ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধার শেষে ডুবে থাকা ওই ড্রেজারে লাল পতাকা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর বেতাগী এলাকায় এরকম আরও কয়েকটি ড্রেজার ডুবে রয়েছে। এগুলো দ্রুত তোলে ফেলা জরুরি। স্থানীয় মো. মিনার জানান, উদ্ধারকৃত যাত্রীদের স্থানীয়রা চা–নাস্তা খাওয়ায় ও কাপড়–চোপড়ের ব্যবস্থা করে। তারপর তাদের দুটো বাসে করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টিমার ডুবির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, স্টিমারটি যখন ডুবে যাচ্ছিল তখন যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে বরফ শীতল নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার ‘প্রত্যাশা’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের প্রায় শতাধিক সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষী বার্ষিক বনভোজনের উদ্দেশ্য নদী পথে কাপ্তাই যাচ্ছিল। দুর্ঘটনা কবলিত বোটে থাকা যাত্রীদের স্বজন ও সামাজিক সংগঠন প্রত্যাশার কয়েকজন জানান, এ ঘটনায় বোটে থাকা যাত্রীরা সবাই নিরাপদ আছেন। তবে অনেকের মোবাইল ফোন ও বনভোজনের খাবার নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও বনভোজন কর্মসূচি স্থগিত করে তারা বাড়িতে ফিরে গেছেন।
এই ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।












