‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ৯২ শতাংশ

অসুস্থ দুই ছাত্রী পরীক্ষা দিলেন মেডিকেল সেন্টারে বসে

চবি প্রতিনিধি | রবিবার , ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৩:২২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পরীক্ষায় সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এ ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেন চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েন উল্ল্যা পাটওয়ারী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের মতো এবারও ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা তিনটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৯ হাজার ২২২ জন পরীক্ষার্থী। এ কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ফলে এখানে উপস্থিতির হার দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ঢাবি কেন্দ্রে মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৭৭ জন। এ কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ২৯৪ জন শিক্ষার্থী। ঢাবি কেন্দ্রে উপস্থিতির হার ছিল ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ৭ হাজার ৬৯ জন শিক্ষার্থী। সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন ৫২৬ জন। রাজশাহী কেন্দ্রে উপস্থিতির হার ছিল ৯৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। তিনটি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬২ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ১৪৭ জন। সব কেন্দ্র বিবেচনায় ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় গড় উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

মেডিকেলে বসে পরীক্ষা : পরীক্ষা দিতে এসে দুই নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে তাদের পরীক্ষা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার সকালে একজন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগে এবং একজন কেন্দ্রে ঢোকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জানা যায়, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কোহিনূর আক্তার। অপরজন রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার। কোহিনূর আক্তারের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল জীববিজ্ঞান অনুষদে। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চাকসু প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। অন্যদিকে সাদিয়া আক্তারের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল নতুন কলা ভবন (শহিদ হৃদয় তরুয়া ভবন)। কেন্দ্রে ঢোকার আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বামী তাকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অবহিত করলে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপউপাচার্যদ্বয়। অতঃপর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সেখানেই তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অধ্যাপক ড. মঈনুদ্দিন।

এক বেঞ্চে তিন শিক্ষার্থী, ক্ষুব্ধ উপাচার্য : কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শহীদ হৃদয় তরুয়া ভবনের ২য় তলায় দর্শন বিভাগের একটি কক্ষে প্রত্যেকটি বেঞ্চে ৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। বেলা ১১টা ২০ এর দিকে এ ভবনে কেন্দ্র পরিদর্শনে যান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় এক বেঞ্চে ৩ জন করে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ডিনের ওপর ক্ষুব্ধ হন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার। এসময় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল শামীম খান বলেন, তিনজনের ভিন্ন ভিন্ন সেট এবং এই অনুষদে আসন সংকুলান না হওয়ায় সবসময় এভাবেই পরীক্ষা হয়ে আসছে।

এ বিষয়ে উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি যেন ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের না বসানো হয়। পরবর্তীতে এরকম অবস্থা যেন না হয় সেজন্য প্রয়োজনে কেন্দ্র বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেরোসিন ঢেলে ঘরে আগুন, কিরিচ নিয়ে নেভাতে বাধা
পরবর্তী নিবন্ধবাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট, মাদুরোর ওপর ট্রাম্পের কেন এত রাগ