সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত ডিসি পার্কে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত মাসব্যাপী ফুল উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন পার্কজুড়ে এনে দেয় বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য।
গত ৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক ফুল উৎসবের উদ্বোধন করেন। মূলত ৮ ফেব্রুয়ারি সমাপ্তির কথা থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে উৎসবের সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়। টানা ৩৫ দিন ধরে জলাধারের চারপাশে পৌষের মৃদু বাতাসে লাল, সাদা, হলুদসহ নানা রঙের ফুল দোল খেয়ে মুগ্ধ করেছে দর্শনার্থীদের।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ১৯৪ একর আয়তনের পুরো পার্কজুড়ে দেশি–বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ ছিল। ফুল দিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য, নান্দনিক থিম ও ল্যান্ডস্কেপিং দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পার্কের প্রতিটি কর্নার সজ্জিত করা হয় দেশি–বিদেশি ফুলে।
এবারের আয়োজনে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয় জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টানেল। ফুলের রঙ ও সুবাসে বিমোহিত হয়ে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ পার্কে ভিড় করেন। মাসব্যাপী এ উৎসবে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো ও পুতুল নাচসহ নানা আয়োজন। প্রতিদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদন জুগিয়েছে।
তবে প্রতি বছরের মতো বাংলাদেশে বসবাসরত ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। উৎসবে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন উপজেলার শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ফৌজদারহাট ডিসি পার্কের ফুল উৎসবের সংবাদ সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।












