ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসব শুরু হচ্ছে আজ

এবার থাকছে দেশি-বিদেশি ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল অন্যতম আকর্ষণ- জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, আমব্রেলা ট্রি

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ফৌজদারহাটবন্দর সংযোগ সড়কের পাশের নান্দনিক ডিসি পার্কে আজ থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘চট্টগ্রাম ফুল উৎসব’। এরই মধ্যে পার্কটি সেজেছে নতুন রূপে। গত তিন বছরের ন্যায় এবারও দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। গত বছর ১৩০ প্রজাতির ফুল দিয়ে সাজানো হলেও এবার দেশিবিদেশি ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলে সাজানো হয়েছে ডিসি পার্ককে। এবারের উৎসবে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছেজিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি, ফ্লাওয়ার ট্রি। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি এই উৎসবে দর্শনার্থীরা প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। এ বছরের অন্যান্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছেমাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। এছাড়াও এই উৎসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর প্রচারণার একটি বিশেষ স্টল থাকবে। থাকবে কাউয়ালি সন্ধ্যার আয়োজনও।

চট্টগ্রাম ফুল উৎসবকে সামনে রেখে গতকাল ডিসি পার্কে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। জেলা প্রশাসক জানান, আগামীকাল শুক্রবার (আজ) থেকে মাসব্যাপী ৪র্থ ‘চট্টগ্রাম ফুল উৎসব’ শুরু হচ্ছে। শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। শুক্রবার উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ ও জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছেঅনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ১৯৪ একরের বিশাল ফৌজদারহাটবন্দর সংযোগ সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকাকে ২০২৩ সালে ফুলের বাগানে পরিণত করে নাম দেয়া হয় ‘ডিসি পার্ক’। প্রশাসনের উদ্যোগে সৃষ্ট নান্দনিক ডিসি পার্ককে ফুলের রাজ্য যেমন বলা হয়, তেমন বলা হয় জলাশয়ের রাজ্যও। জলাশয় আর ফুল মিলে জায়গাটি পরিণত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ একটি ইকোসিস্টেমে। ফুলের আকর্ষণে প্রজাপতি আর মৌমাছি আসে। জলাশয় থাকার কারণে সেখানে ফড়িং, পানকৌড়ি বা রঙিন মাছের আনাগোনা বাড়ে। ফুলের পরাগায়ন আর জলাশয়ের জলজ জীবন মিলে প্রকৃতি প্রাণবন্ত রূপ পায়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দৈনিক আজাদীকে বলেন, ডিসি পার্কে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘চট্টগ্রাম ফুল উৎসব’। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ আধার ডিসি পার্কে ১৪০ প্রজাতির ফুলের সমারোহ ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান নিয়ে থাকছে আমাদের মাসব্যাপী আয়োজন। এ উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব, বই উৎসব, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো ও কাউয়ালি সন্ধ্যা।

মজাদার অ্যাডভেঞ্চার রাইড ‘জিপ লাইন’ উৎসবের অন্যতম একটি আকর্ষণ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, টিউলিপ, গোলাপ, নানা রঙের গাঁদা, ডালিয়া, রেড সেলভিয়া, সেমি ড্রপ, চন্দ্রমল্লিকা, সন্ধ্যামালতী, রজনীগন্ধা, নয়নতারা, থাই জবা, দোলনচাঁপাসহ লক্ষাধিক ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে ডিসি পার্ক। লালহলুদের পাশাপাশি সাদা ও গোলাপি ফুলের সমারোহও থাকবে। আমাদের দেশে বসবাসকারী ১৬টি দেশের ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব কালচার নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে রামদাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৪ জনের আপিল