ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই!

আতুরার ডিপোয় ঘটনা, পাঁচলাইশ থানায় মামলা, এ স্বর্ণের বাজার মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে ডিবি পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাজারী গলির এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৩৫টি স্বর্ণের বার (প্রতিটি ১০ ভরি করে ৩৫০ ভরি) ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা। গত রোববার ভোর পাঁচটার দিকে নগরের পাঁচলাইশ আতুরার ডিপো এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে স্বর্ণের বারগুলো ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে হাজারী গলির ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পক্ষে পাঁচলাইশ থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, রোববার ভোরে নগরের হাজারী গলি এলাকার একটি দোকানের তিন কর্মচারী স্বর্ণের বারগুলো গলানোর জন্য ভাটিয়ারী যাচ্ছিলেন। তাঁদের বহনকারী অটোরিকশা মুরাদপুরঅক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা চার যুবক গতি রোধ করে। অস্ত্রের মুখে তাঁদের তিনজনকে জিম্মি করে তাদের কাছে থাকা সোনার ৩৫টি বার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকান কর্মচারী সুবজ দেবনাথ পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন,

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। জানা যায়, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে স্বর্ণ বহনকারী দোকানের কর্মচারীদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ছিনতাই চক্র। পরে পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় পৌছলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণ বহনকারী দোকানের কর্মচারীদের জিম্মি করে স্বর্ণগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ অভিযানে মাঠে কাজ করছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ব্যবসায়ীয় পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, চট্টগ্রামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ছিনতাই কাজে জড়িত।

জানা গেছে, হাজারী গলির একটি স্বর্ণের দোকানের কারিগরেরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্বর্ণের বারগুলো বহন করছিলেন। পথে তাঁরা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এরপর অস্ত্রধারীরা হিলভিউ আবাসিক এলাকার পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। মামলার এজাহারে ছিনতাইকারীদের একজনের নাম সুমন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী আজাদীকে বলেন, গতকাল (গত রোববার) বাসা থেকে তার কারিগররা কারখানায় আসছিলেন। পথে ছিনতাইকারীরা তাদের পথরোধ করে। ছিনতাইকারীর দলে প্রায় আট/দশ জন সদস্য ছিল। তাদের প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র ছিল। সেই অস্ত্র দিয়ে আমার কর্মচারীদের জিম্মি করে তাদের কাছে থাকা ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা।

তিনি আরও বলেন, ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজনকে আমার কারিগররা চিনতে পেরেছেন। তাদের একজনের নাম সুমন। যে বিগত চার পাঁচ বছর আগেও আমার ভাইয়ের কাছ থেকে স্বর্ণ ডাকাতি করেছিল। তার পেশাই হলো স্বর্ণ ডাকাতি করা।

এই ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানার ওসি তদন্ত অমিতাভ দত্ত জানান, স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তারা বলছে ৩৫টি বার ছিল (প্রতিটি ১০ ভরি করে ৩৫০ ভরি)। এটা ৪ তারিখ ভোর সাড়ে ৫টার ঘটনায়। তারা বলছে, এগুলো গলানোর জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। তারা একাধিক গ্রুপে করে নাকি যায়। এই ব্যাপারে আমরা মাঠে কাজ করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের দুই গার্ডের মরদেহ উদ্ধার