ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটল

ইস্টার্ন রিফাইনারি উৎপাদনে ফেরায় জ্বালানি সেক্টরে স্বস্তি

হাসান আকবর | রবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

দেশে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সংকটসহ জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। দেড় মাসের বেশি সময় পর রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি উৎপাদনে আসায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে জ্বালানি সেক্টরে। দেশে প্রচুর ক্রুড অয়েলের মজুদ এবং পাইপলাইনে তেলভরতি অনেক ট্যাংকার থাকায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের যেকোনো আশঙ্কা নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, গেল সপ্তাহে দেশে জ্বালানি তেলের, বিশেষ করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তেল প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছিল তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোগুলোতে। এর মধ্যে জেট ফুয়েল কেবলমাত্র পদ্মা অয়েল কোম্পানি যোগান দেয়। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জেট ফুয়েল সময়মতো না পৌঁছানো এবং পরবর্তীতে বন্দরে কর্মবিরতির জন্য খালাসে জটিলতায় সংকট তৈরি হয়েছিল। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় ডিজেল এবং জেট ফুয়েল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ায় সংকট প্রকট হয়ে উঠছিল।

সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি সংস্কারের জন্য বন্ধ হওয়ার কথা ছিল গত অক্টোবরে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে দিনক্ষণ কয়েক দফা পেছাতে হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ করে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা হয়। কথা ছিল ৩১ জানুয়ারি উৎপাদনে যাবে। কিন্তু একটি যন্ত্রাংশ যোগানে সমস্যা হওয়ায় এবং পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডস থেকে যন্ত্রটি এনে স্থাপন করায় রিফাইনারি চালু করা এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায়। অবশেষে প্রায় ১ মাস ২০ দিন পর গতকাল সকাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি স্টার্টআপ করেছে। আজ সকাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারি দৈনিক প্রায় ৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে। এর থেকে ২ হাজার টন ডিজেলসহ প্রায় ১৫ ধরনের পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের সিডিউলে কিছুটা পরিবর্তন আসায় গেল সপ্তাহে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। ইস্টার্ন রিফাইনারি ঠিকভাবে চালু হওয়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে জ্বালানি তেলের একাধিক ট্যাংকার চট্টগ্রামে পৌঁছে যাওয়ায় জ্বালানি তেল সেক্টরে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

বিপিসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭টি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে। এগুলোর প্রতিটিতে ৩০ হাজার টন করে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে। আগামী মাসেও ১৬টি ট্যাংকার আসবে। ইতোমধ্যে ওগুলোর প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির ট্যাংকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার টন ক্রুড অয়েল রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আজ থেকে এসব ক্রুড অয়েল পরিশোধন শুরু হবে। চলতি মাসে আরো এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে অপর একটি মাদার ট্যাংকার চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। আগামী মাসে দুটি ট্যাংকার ক্রুড নিয়ে আসবে।

দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের শঙ্কা নেই উল্লেখ করে বিপিসির পদস্থ একজন কর্মকর্তা গতকাল আজাদীকে জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ থাকায় কিছুটা উদ্বেগ ছিল। তা কেটে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতিতে যেসব ট্যাংকার আটকা পড়েছিল সেগুলো শুক্র ও শনিবার খালাস করে অভ্যন্তরীণ রুটে বিভিন্ন গন্তব্যে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েল নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাও সমাধা হয়ে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ৬৫৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটির ২০টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু