ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ট্রেন ও বাসে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে নগরবাসীরা গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে প্ল্যাটফর্মে জনস্রোত আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রামের কদমতলী আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারসহ গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় সকাল থেকেই বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরীবুল্লাহশাহ মাজারে দূরপাল্লার এসি বাস কাউন্টারগুলোতে আগেই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে এসে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন।
এদিকে গতকাল বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বিলম্বের কারণে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। চাঁপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিলম্বে শত শত যাত্রী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রীকে রেল স্টেশনে ইফতার করতে হয়েছে।
কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, মেঘনা এঙপ্রেসে টিকিট থাকলেও সিট পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে পরিবার–পরিজন নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেক যাত্রী। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি ছিল। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ঈদে ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী ঘরে ফিরছেন। অপরদিকে, অন্তঃজেলার বাসে করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, চাঁদপুরগামী মেঘনা এঙপ্রেস ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বে ছেড়ে গেছে, বগি এক্সটা বগি যোগ করার কারণে। ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস আধঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। অন্যান্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী ও শিশু যাত্রীর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই পরিবার–পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলে। ৩ মার্চ যাত্রীদের মধ্যে ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। ১৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের পরিবহন শুরু হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এবারও ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকিট যাচাই শেষে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্টেশন মাস্টার বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত স্টেশনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ জানান, সোমবার চতুর্থ দিনের অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
ঈদে প্রতিদিন আন্তঃজেলার ১২০০টি এসি ও নন–এসি গাড়ি ছাড়ছে : আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন জানান, ১৬ মার্চ থেকে আন্তঃজেলা বাসের অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০টি এসি ও নন–এসি বাস সারাদেশে চলাচল করবে। এসব বাসে ঈদে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন রুটে জনপ্রিয় দূরপাল্লার বাস সার্ভিসগুলো চলাচল করছে। বিশেষ করে শ্যামলী, হানিফ পরিবহন, গ্রীণ লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, ইউনিক, দেশ ট্রাভেল, তিশা পরিবহন, ঈশিতা পরিবহন, শান্তি পরিবহন, সিল্ক লাইন, ইকোনো সার্ভিস, সেন্টমার্টিন, এ কে ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস, স্বাধীন পরিবহন ও মারছা পরিবহন–এসব বাসে এসি ও নন–এসি সার্ভিস চালানো হচ্ছে।












