মাইলেজ জটিলতা নিয়ে ২৬ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ৮ ঘণ্টার বেশি ট্রেন না চালানোর আলটিমেটাম থেকে সরে এসেছেন ট্রেন চালক (লোকোমাস্টার), গার্ড ও টিটিইরা। মাইলেজ জটিলতার বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা রেল মন্ত্রণালয়ে রেল সচিব সেলিম রেজার সাথে বৈঠকের পর পূর্ব ঘোষিত আলটিমেটাম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেন।
গত ২২ ডিসেম্বর রেলওয়ে রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ে রেল সচিবের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে রেল সচিব সেলিম রেজা বিদেশ থেকে রেলমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাইলেজ জটিলতা নিসরসের আশ্বাস দেয় (পূর্বের ন্যায় মাইলেজ পদ্ধতি বহাল রাখা)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ভুইয়া আজাদীকে জানান, মাইলেজ পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নিরসন না হলে ২৬ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে কোনে ট্রেন চালাক ৮ ঘণ্টার বেশি ট্রেন চালাবেন না বলে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সারাদেশ থেকে নেতারা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় দেশে আসলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ করে এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন। সচিব মহোদয় আশ্বাস দেয়ায় আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা মেনে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির দাবি ছিল মাইলেজ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা, রানিং কর্মচারীদের মাইলেজ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করা, মাইলেজ কোড বাতিল করে পার্ট অব পে হিসেবে ন্যায্য বেতনের কোড থেকে মাইলেজ দেওয়া। তাদের মতে মাইলেজ হলো ‘পার্ট অব পে’। কাজ করলেই পাই, না করলে পাই না। এটি বৃটিশ আমল থেকে চালু। রানিং স্টাফদের প্রতি ৮ ঘণ্টা কাজ করার পর ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ যে অর্থ প্রদান করা হয় তাই মাইলেজ। দেড়শ বছরের পুরোনো রেলওয়ে রানিং স্টাফদের মাইলেজ পদ্ধতি। বর্তমানে ট্রেন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক রাখতে এসব রানিং স্টাফের দৈনিক নির্ধারিত ১২ কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। কিন্তু গত জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে রেলওয়েতে ডিজিটাল সিস্টেম-আইবাস প্লাস প্লাস পদ্ধতিতে বেতন-ভাড়া পরিশোধের নিয়ম চালু হতে হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ট্রেনের লোকোমাস্টার, সহাকারী লোকোমাস্টার, গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিটিইরা মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার মাইল ট্রেন চালালেও ৩ হাজার মাইলের বেশি ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যার কারণে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই ডিজিটাল সিস্টেমে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী প্রতি মাসে ৩ হাজার মাইল ট্রেন চালানোর ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই জটিলতার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রেলওয়ের ২৫শ’ ট্রেন চালক, সহকারী চালাক, গার্ড ও টিটিই।











