ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু

যাত্রীদের চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ চট্টগ্রাম স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই কেউ কেউ নগর ছাড়ছেন। গতকাল ১৩ মার্চ শুক্রবার বিকালের পর থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এটি ছিল এবছর ঈদযাত্রা শুরুর প্রথম দিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর আড়াইটায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের অনেক ভিড়। স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এখনো ট্রেনের ঈদযাত্রা বলতে যা বোঝায়; স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু ট্রেনের প্রতিটি বগি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে সর্বত্র জনস্রোতের মতো অবস্থা তা এখনো হয়ে উঠেনি।

স্টেশন মাস্টারসহ স্টেশনে দায়িত্বরত আরএনবির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে স্টেশন জনস্রোতে পরিণত হবে১৬ তারিখ থেকে। বিকাল আড়াইটার দিকে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়যাত্রীরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে স্টেশনে হাজির হচ্ছেন। বিশেষ করে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী সোনার বাংলা ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।

প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ মানুষের চোখেমুখে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দ। তবে ভিড় সামলাতে অনেক যাত্রীকেই কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।

পরিবার নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে স্টেশনে যে ভিড় হয়, সেই ধকল সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। তাই একটু আগেভাগেই বেরিয়ে পড়েছি। ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটতে পেরেছি, সেটাই স্বস্তির।

এদিকে নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার মৎস্য আড়তে চাকরি করেন মফিজ উদ্দিন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, সারা বছর এক নাগাড়ে কাজ করেছি। ঈদে বাড়ি যাবো বলে কোনো ছুটি নিইনি। তাই এখন আড়ত থেকে কয়েকদিন আগেই ছুটি নিয়েছি। ভিড় এড়াতে আগেভাগেই বাড়ি ফিরছি। বাড়িতে এই কয়েকদিন সময়ে নিজের জমিতে চাষ করবেন বলে জানান মফিজ উদ্দিন।

স্টেশনে সিলেটগামী ট্রেনের জন্য স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন বন্দর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আবদুল মোতালেব। তিনি বলেন, এবার ঈদের ছুটি একটু বেশি। এজন্য আগে ভাগেই চলে যাচ্ছিভিড় এড়ানোর জন্য। বাড়িতে বৃদ্ধ মা ও বাবা আছেন। তাদের জন্য নতুন কাপড় নিয়েছি। গত বছর কোরবানী ঈদে বাড়ি গিয়েছি। ঈদে ছাড়া আর বাড়িতে যাওয়া হয় না বলে জানান আবদুল মোতালেব। আবদুল মোতালেবের কলেজ পড়ুয়া কন্যা সাইমা জানান, ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ অন্য সবার মতো একই। ভিড় তো আছেই, তবু বাড়ির কথা ভাবলে সব কষ্ট ভুলে যাই। বাড়িতে দাদাদাদিসহ কাজিনরা আছেন। প্রতি বছর সবার সাথে ঈদের আনন্দ অন্যরকম হয়ে উঠে।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে স্টেশন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবারও ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকিট যাচাই শেষে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, ঈদযাত্রার প্রথম দিন এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক। প্রতিটি ট্রেন সময় মতো ছেড়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত কোনো ভিড় নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যরাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসদকাতুল ফিতর : রোজার ভুলত্রুটির কাফফারা হিসেবে প্রদান করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধপাম্পগুলো বন্ধ কেন?