টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জের বছর ২০২৬ সাল

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ

সেই ২০০৩ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের কুলীন দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম ও এখনও পর্যন্ত শেষ টেস্ট সিরিজ সেটি। এরপর এদেশের ক্রিকেটে দুতিনটি প্রজন্ম চলে গেছে। দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, সফলতম ওপেনার তামিম ইকবাল কখনও অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সোনালি সেই প্রজন্মের আরেক প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান পৌঁছে গেলেন ক্যারিয়ার গোধূলিতে। অবশেষে ফুরোচ্ছে সেই অপেক্ষা।

সব ঠিকঠাক থাকলে এই বছর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও। ২০২৬ সালকে বলা যায় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জের বছর। এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ড ১০টি (২০২২ ও ২০২৪ সালে)। এ বছরও অন্তত ১০টি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। বছরের প্রথম মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেট ডুবে থাকবে বিপিএলেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততার শুরু ফেব্রুয়ারিতে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপাল। গ্রুপের প্রথম তিন ম্যাচে লিটন কুমার দাসের দল খেলবে কলকাতায়, পরেরটি মুম্বাইয়ে। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর মার্চে দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ। দুটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টির সিরিজটি অবশ্য দুই ভাগে হবে, পাকিস্তান সুপার লিগের আগে ও পরে। এপ্রিলে দেশের মাঠেই সিরিজ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। তিনটি করে ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টি খেলবে কিউইরা।

তিনটি করে ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টি খেলতে জুনে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেটে মূল ব্যস্ততা শুরু বছরের দ্বিতীয় অর্ধে। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে দুটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্যও সিরিজটি হবে গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ে থেকে ফেরার পরপরই আয়ারল্যান্ড সফর। সেখানে আছে তিনটি করে ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টি। এরপর অগাস্টে সেই বহু প্রতিক্ষীত অস্ট্রেলিয়া সফর। ম্যাচ দুটির তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খেলা হবে ম্যাকাই ও ডারউইনে। এই সফরটি ছিল মূলত আগামী বছরের মার্চে। নির্ধারিত সময়ে সিরিজটি হলে হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মূল টেস্ট ভেন্যুগুলোতেই খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই মার্চেই ইংল্যান্ডের সঙ্গে মেলবোর্নে বিশেষ একটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেজন্যই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি এগিয়ে আনা হয়েছে। অক্টোবরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ানরা খেলবে কেবল দুটি টেস্ট ম্যাচই। বছর শেষ হবে নভেম্বরডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে। দুটি টেস্টের সঙ্গে ওই সফরে আছে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচও। পরের বছরের বিশ্বকাপের জন্য এই সিরিজটিও হবে উপযোগী। সব মিলিয়ে আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ এ বছর খেলবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলবে ১০ টেস্ট, ২০ ওয়ানডে ও ১২ টিটোয়েন্টি। নানা পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে সংখ্যাগুলোয় সংযোজনবিয়োজন আসতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাফ ফুটসালে যাচ্ছেন আজ সাবিনারা
পরবর্তী নিবন্ধডায়নামিক, আরজি, আনোয়ারা ও শিকলবাহা একাডেমির জয়