মিয়ানমার থেকে ছুঁড়ে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধের একদিন পর এবার স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার নাম মো. হানিফ (২৮)। বিস্ফোরণে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যাং সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবক হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।
স্থানীয় লোকজন জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন চিংড়ি ঘেরে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন হানিফ। তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংয়ে স্থানীয় এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত জানান, আহত হানিফ হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই চিংড়ির খামারে চাকরি করেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি খামারে রাখা নৌকা ঠিকমতো আছে কিনা দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় পুঁতে রাখা স্থলমাইনটি বিস্ফোরণ হলে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাইন বিস্ফোরণের শব্দ ও হানিফের চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতি নাফ নদী ও সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশিরা যেন না যান, সে ব্যাপারে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এর আগেও স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি কয়েকজন জেলে আহত হয়েছেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থানে হামলা, গোলাগুলি চলছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ওপার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে। ওপার থেকে ছোড়া বেশ কিছু গুলি, ড্রোন, মর্টার শেলের অংশ হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার কিছু ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও মাঠে এসে পড়েছে। এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, েেরাববার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তবে পরিস্থিতি থমথমে। যেকোনো সময় ওপারে আবার সংঘাত লেগে যেতে পারে। এপারে গুলি এসে পড়ার ভয়ে হোয়াইক্যং সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন, অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। সীমান্তের অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশিদের না যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ওপারের পরিস্থিতি আমরা নজরদারিতে রেখেছি। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করা আছে।
মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাফ নদীতে মাছ ধরাও বন্ধ রয়েছে।












