টেকনাফে অভিযানকালে র‌্যাবের ওপর হামলায় আহত ১০, গাড়িতে আগুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২৬ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানকালে র‌্যাবের আভিযানিক দলের ওপর হামলার করেছে আসামির লোকজন। এ ঘটনায় র‌্যাবের ৮১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। র‌্যাবের দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এসময় ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান নামের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ ইয়াবা কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ফরিদুল আলম টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার সিদ্দিক আহমেদের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব১৫ টেকনাফ সিপিসিএর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা জানান, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র‌্যাবের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেসহ ৮১০ জন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র‌্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার আগে নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলমকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র‌্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘র‌্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র‌্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে আটক ফরিদ আলমের বাবা মোহাম্মদ সিদ্দিক দাবি করেন, ‘আমাদের ইফতার মাহফিলের সময় সাদা পোশাকে ১০১৫জন র‌্যাবের সদস্য কোনো কথা ছাড়া আমাদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

তিনি দাবি করেন তার ছেলে ফরিদ আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলার ওয়ারেন্ট নেই। মূলত তাদের হয়রানি করতে এই ঘটনা করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বৈধ, আপিল খারিজ
পরবর্তী নিবন্ধভূমি প্রতিমন্ত্রীর বাড়তি দায়িত্ব পেলেন হেলাল