বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আইসিসি উইমেন’স টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে। গতকাল বুধবার বাছাই পর্বে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয়ের স্বাদ পায় তারা। বিকেলে নেদারল্যান্ডসও যুক্তরাষ্ট্রকে হারায়, ফলে বাংলাদেশের মূল পর্ব নিশ্চিত হয়। বাছাইয়ে দুই ম্যাচ বাকি রেখেই এই অর্জন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নেদারল্যান্ডসও ২১ রানে জয় পেয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এবার বাংলাদেশের মেয়েরা টানা সপ্তমবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে। ২০১৪ সালে দেশের মাঠে অভিষেক আসরে অংশ নিয়েছিল তারা। পরের প্রতিবারগুলোতে সবসময় বাছাই পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দল।
সুপার সিক্সের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্টও এখানে যোগ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সুপার সিক্সে সেই দলগুলো পরস্পরের সঙ্গে পুনরায় খেলবে না। তাই সুপার সিঙে প্রতিটি দল তিনটি ম্যাচ খেলবে, যদিও হিসাব হবে মোট পাঁচ ম্যাচের পয়েন্ট। বাংলাদেশের সমান ৬ পয়েন্ট আছে নেদারল্যান্ডসেরও। তবে রানরেটে দুই নম্বরে আছে ডাচ মেয়েরা।
সুপার সিক্সের শীর্ষ চার দলই বিশ্বকাপে যাবে। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি দুটি জায়গার জন্য আপাতত চার দল লড়াই করছে স্কটল্যান্ড ৪ পয়েন্ট, আয়ারল্যান্ড ২ পয়েন্ট, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো পয়েন্ট পায়নি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রানরেট ১.১৫০, স্কটল্যান্ডের রানরেট ১.৩৫৬। বাছাই পর্বের বাংলাদেশের শেষ দুই ম্যাচ শুক্রবার স্কটল্যান্ডের, রোববার নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে। উইমেন’স টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর আগামী জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে বাংলাদেশ ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। এটি নারী টি–টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। থাইল্যান্ডকে জবাব দিতে নেমে তাদের ইনিংস থেমে যায় ১২৬ রানে।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু ভালো হয়নি। প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে ফিরে যান ওপেনার দিলারা আক্তার। শারমিন ১১ রান করে আউট হন। এরপর হাল ধরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। এই দুজনের ৮২ বলে ১১০ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে। জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৫৬ রান করেন, যার মধ্যে ৪টি ছক্কা। এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা যৌথ রেকর্ড। সোবহানা ৪২ বলে ৫৯ রান করেন এবং ম্যাচসেরা হন। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ‘ক্যামিও’ ইনিংস খেলেন। থাইল্যান্ডের পুত্থাওয়াং ২২ রানে ৩ উইকেট নেন, ওনিচা ২৯ রানে ২ উইকেট নেন।
ব্যাট হাতে দিলারা প্রথম বলে আউট হলেও বল হাতে তার শোধ নিয়েছেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। এরপর থাইল্যান্ড প্রয়োজনীয় রানরেট ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পাঁচ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান, যা অসম্ভব হয়ে ওঠে। থাইল্যান্ডের চ্যান্থাম ৪৬, চাইউই ৩০ ও কোনচারোয়নকাই ২৯ রান করেন। বল হাতে মারুফা ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন। রিতু ও স্বর্ণা যথাক্রমে ২০ ও ২১ রান খরচায় ২টি করে উইকেট নেন।












