টাকা না পেয়েই দাদী ও ফুফুকে কুপিয়ে হত্যা

৬ দিন পর গ্রেপ্তার নাতির স্বীকারোক্তি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

টাকা চেয়ে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ নাতি খাগড়াছড়ির রামগড়ে দাদী ও ফুফুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। রামগড়ের পূর্ব বাগানটিলায় নিহত আমেনা বেগমের নাতি সাইফুল হককে (৩৫) গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। অভিযুক্ত সাইফুল হক নিহত আমেনা বেগমের বড় ছেলে মো. শাহবুদ্দিনের পুত্র। হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন পর গত বুধবার ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ২০ আগস্ট রাতে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব বাগানটিলা প্রত্যন্ত এলাকায় বৃদ্ধা আমেনা বেগম ও তার মেয়ে রাহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের দরজা খোলা থাকলেও পরদিন সকালে বাড়িতে কাউকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দুজনের গলাকাটা লাশ দেখতে পান। মাটির তৈরি ঘরের তিনটি কক্ষের দুটিতে খাটের ওপর মা ও মেয়ের মরদেহ পড়েছিল, খাটে মশারিও টানানো ছিল। অপর কক্ষের খাটে মশারি টানানো দেখা গেলেও রাতে সেখানে কে ছিল তা জানা যায়নি।

খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২১ আগস্ট নিহত রাহেনা বেগমের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে রামগড় থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। জমির বিরোধে বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করলেও ক্লুলেস থাকায় হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে বেগ পাচ্ছিল পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ সাইফুল হককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাদী ও ফুফুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, সাইফুল তেমন কোনো পেশায় জড়িত ছিলেন না। তাই আর্থিক অনটনে থাকতেন। কয়েকদিন আগে তার দাদী আমেনা বেগম দেড় লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন সাইফুল দাদীর বাড়িতে এসে তার কাছে টাকা চান। সেদিন আমেনা বেগম ও রাহেনা বেগমই বাড়িতে ছিলেন। তারা টাকা না দিয়ে সাইফুলকে গালমন্দ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাইফুল না খেয়ে দাদীর ঘরে শুয়ে থাকে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে। রাত গভীর হলে দাদী এবং ফুফু পার্শ্ববর্তী দুইটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সাইফুল দাদীর ঘরে থাকা বাঁশ কাটার দা দিয়ে প্রথমে ফুফু রাহেনা আক্তারের গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে, এরপর একইভাবে দাদীকেও হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ফুফু রাহেনা আক্তারের ব্যবহৃত মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান সাইফুল। পরে মোবাইলটি তিনি চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারের এক দোকানদারের কাছে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। সাইফুল হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউচ্ছেদের পর আবার পূর্বের আদলে
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে প্রথম রিজিয়নাল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন