পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীর ইফতার আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ভবনের ১৬ তলায় অবস্থিত টাউন হল রেস্টুরেন্ট। রুফটপের মনোরম পরিবেশে সাজানো হয়েছে ৪৪ ধরনের ইফতার আইটেমের বিশাল সম্ভার। পেঁয়াজু, বেগুনি থেকে শুরু করে বিরিয়ানি, কাবাব ও ল্যাম্ব রোস্ট পর্যন্ত নানা স্বাদের খাবার পাওয়া যাচ্ছে এখানে। মাত্র ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের খাবার থাকায় সব শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্যই রাখা হয়েছে এই আয়োজন।
জানা গেছে, টাউন হলের ইফতার বাজারে রয়েছে নানা ধরনের সুস্বাদু ভাজাপোড়া ও মুখরোচক খাবার। এর মধ্যে পেঁয়াজু ও বেগুনি প্রতি পিস ১৫ টাকা, মরিচ্যা ১২ টাকা, ভেজিটেবল পাকোড়া ১৮ টাকা, ডিম আলু চপ ৩০ টাকা, কলিজা সিঙ্গারা ৪৫ টাকা এবং কিমা চপ ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
রুটি ও নানের মধ্যে রয়েছে বাটার নান প্রতি পিস ৯৫ টাকা, গার্লিক নান ১০৫ টাকা, রুমালি রুটি ৬৫ টাকা এবং পরোটা ৭৫ টাকা। প্রধান খাবারের তালিকায় রয়েছে চিকেন দম বিরিয়ানি (১:১) ৩২৫ টাকা, বিফ তেহারি (১:১) ৩৪৫ টাকা, মোরগ পোলাও ২৯৫ টাকা, কাচ্চি বিরিয়ানি (১:১) ৪৯৫ টাকা এবং খাবসা চিকেন (১:১) ৬২৫ টাকা।
এছাড়া বিভিন্ন কাবাব ও ফাস্টফুড আইটেমও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চিকেন কাটলেট ২০০ টাকা, প্রন টোস্ট ৫৫ টাকা, ফ্রাইড অন্থন ৪০ টাকা, চিকেন ললিপপ ৭৫ টাকা, চিকেন সাসলিক ১৭৫ টাকা, চিকেন জালি কাবাব ৭৫ টাকা এবং চিকেন তন্দুরি কাবাব ১৫০ টাকা। বিফ বিহারি কাবাব ৩৭৫ টাকা, চিকেন কাটি রোল ২১৫ টাকা, চিকেন টিক্কা কাবাব (৬ পিস) ৩৭৫ টাকা ও চিকেন রেশমি কাবাব (৬ পিস) ৩৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের আইটেমের মধ্যে তন্দুরি চিকেন (সোনালি) ১/৪ অংশ ২২৫ টাকা ও ১/২ অংশ ৪৩৫ টাকা, পুরো চিকেন রোস্ট ৫৯৫ টাকা, সোনালি পুরো চিকেন রোস্ট ৭৯৫ টাকা এবং ল্যাম্ব রোস্ট ৩৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বিফ মেজবানি প্রতি কেজি ১৫৯৫ টাকা, বিফ নিহারি (১:১) ৩৯৫ টাকা, চিকেন শাহী হালিম প্রতি কেজি ৭৯৫ টাকা এবং মাটন হালিম প্রতি কেজি ১০৫০ টাকা।
নিরামিষ ও বিশেষ খাবারের তালিকায় রয়েছে পনির টিক্কা মাসালা (১:২) ২৭৫ টাকা এবং মুর্গ মাখানি (১:২) ৪৫৫ টাকা।
মিষ্টান্নের মধ্যেও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। শাহী জিলাপি আধা কেজি ১৭৫ টাকা ও ১ কেজি ৩৫০ টাকা, রাবড়ি জিলাপি আধা কেজি ২৯৫ টাকা ও ১ কেজি ৫৯৫ টাকা, ফিরনি প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং দই বড়া (৪ পিস) ৪৫০ টাকা। পানীয় হিসেবে রয়েছে বাদাম শরবত ৫০০ মিলি ২৫০ টাকা এবং সুইট লাচ্ছি ৫০০ মিলি ১২৫ টাকা। এছাড়াও রেস্টুরেন্টটিতে ডাইন–ইন মেন্যু রয়েছে পাঁচ ধরনের, যার মূল্য ৭৯৫ টাকা থেকে ৩৫৯৫ টাকা পর্যন্ত। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের খাবারের মান পাঁচ তারকা মানের রেস্টুরেন্টের সমতুল্য। সুন্দর পরিবেশ, উন্নতমানের খাবার এবং রুফটপ লোকেশনের কারণে অনেকেই এখানে এসে ইফতার উপভোগ করেন।
ইফতার করতে এসে নগরবাসীও এই আয়োজনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। নগরের এক বাসিন্দা আকিবুল হাসান বলেন, এখানে একসাথে অনেক ধরনের ইফতার আইটেম পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশটাও খুব সুন্দর। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বসে ইফতার করার জন্য জায়গাটা বেশ উপভোগ্য।
আরেক দর্শনার্থী আরফিন আক্তার বলেন, রুফটপে বসে ইফতার করার আলাদা একটা অনুভূতি আছে। খাবারের স্বাদও ভালো। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশ ও মানের দিক থেকে সেটা অনেকটাই যুক্তিযুক্ত। টাউন হলের অপারেশন ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নগরীতে বেশ সাড়া ফেলেছি। সামনে আরও ভালো অফার নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে সব শ্রেণি–পেশার মানুষ আসতে পারবেন এমনভাবে আমরা দাম নির্ধারণ করেছি। আর যেসব খাবার অবিক্রিত থাকে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়, তাই আগের দিনের খাবার পরের দিন পরিবেশনের কোনো সুযোগ নেই।
চট্টগ্রামের ব্যস্ত নগর জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভিন্ন স্বাদের ইফতার উপভোগের জন্য রুফটপে এমন বৈচিত্র্যময় আয়োজন ইতোমধ্যে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।












