টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

কদিন আগে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের খেলায় ভালো খেলেও সিঙ্গাপুরের কাছে হার মেনেছিল বাংলাদেশ। সিনিয়ররা ব্যর্থ হলেও জুনিয়ররা তা হননি। বরং দেশের মুখ উজ্জ্বল করে তুলেছেন বাংলাদেশের যুবারা। মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার রাতে সাফ অনূর্ধ্ব২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪৩ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়। চলতি আসরেই গ্রুপ পর্বের দেখায় দুই দলের দ্বৈরথ শেষ হয় ১১ ড্রয়ে। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের দেখা পান মুর্শেদ আলি, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম ও রোনান। মিস করেন স্যামুয়েল। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের চতুর্থ শট নেন স্যামুয়েল রাকসাম। আর তখনই ভারত গোলকিপার সুরজ সিং ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে শুয়ে পড়েন মাটিতে। বাংলাদেশের মোমেন্টাম কিছুটা নষ্ট হয়ে গেল সেখানেই। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে পোস্টে ফেরেন সুরজ। স্যামুয়েল রাকসামের শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। ভারত ও বাংলাদেশ তখন ৩৩ সমতায়। কিন্তু পঞ্চম শট নিতে এসে ভারতের ওমং দোদুম মেরে দেন বাইরে। বাংলাদেশ তখন তাকিয়েছিল রোনান সুলিভানের দিকে। নিখুঁত ‘পানেনকা’ শটে লক্ষ্যভেদ করলেন তিনি। জয়ের উচ্ছ্বাসে বাঁধনহারা উৎসবে মেতে উঠে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান ইসমাইল হোসেন মাহিন। এরপর লক্ষ্যভেদ করেন মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন ও বিশাল যাদব। পঞ্চম শটে বাইরে মারেন দোদুম। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট সাতবার। এর মধ্যে চারবার সেরা হয়েছে ভারত। নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার এই শিরোপা জিতেছে। ২০২৪ সালে প্রথম এই শিরোপা জিতে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বার শিরোপা স্বাদ পেল দল। সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ ও ভারত। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব২০ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব১৯ ক্যাটাগরিআগের তিন ফাইনালেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারই প্রথম বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভারতকে হারানোর আনন্দ সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। একটি পরিবর্তন এনে গতকাল সেরা একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ মার্ক কঙ। সানি দাসের বদলে শুরু থেকে খেলান আব্দুল রিয়াদ ফাহিমকে। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন ডেকলান সুলিভান, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই ডিফেন্ডারকে বেঞ্চে রাখেন বাংলাদেশ কোচ। ডেকলানের ভাই রোনান নিয়মিতই খেলছেন লালসবুজের জার্সিতে। ভারতের বিপক্ষেও শুরু থেকে আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সপ্তম মিনিটে বাম দিক থেকে রোনানের বাম পায়ের দুর্বল শট পারেনি গোলকিপারকে পরাস্ত করতে। ভারতের রোহেন সিং ডান প্রান্ত ধরে একের পর এক বিপদজনক ক্রস ফেলতে থাকেন বঙে, কিন্তু রক্ষণের দৃঢ়তায় বিপদে পড়েনি বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ মিনিটে রোনানের ক্রসে বঙের ভেতরে অনেকটা লাফিয়ে মিঠু চোধুরী হেড লক্ষে রাখতে পারেননি। দুই মিনিট পর মানিকের বঙে ফেলা বলে দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে পা চালিয়েছিলেন রোনান, কিন্তু পাননি বলের নাগাল। ৩৬তম মিনিটে কর্নারের পর ছোট বঙের উপর থেকে ঋশিকান্ডা শরীর ঘুরিয়ে ভলি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রক্ষণের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। কামাল মৃধার ক্লিয়ারেন্সের পর জদরিক আব্রানাচেসের দুর্বল হেড সহজেই গ্লাভসে জমান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের নিচু পাস বুটের টোকায় তুলে সাইড ভলি করেছিলেন রোনান, কিন্তু বল উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই, কিন্তু কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি। ৬৫তম মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের বদলি নামেন ডেকলান। ৮২তম মিনিটে ভারতের একটি প্রচেষ্টা উপরের জাল কাঁপায়। একটু পরই গোলমুখ থেকে বিশাল যাদব টোকা দিতে ব্যর্থ হলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাকি সময়ে কেউ গোলের দেখা না পাওয়ায় ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে। আর সেখানে দারুণ জয়ের আনন্দে উল্লাসে ভাসে বাংলাদেশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রাণ ফিরেছে বইমেলায়
পরবর্তী নিবন্ধফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী দোকানকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা